Published : 30 Jul 2025, 01:13 PM
‘যেখানে সবকিছু শুরু হয়েছিল…’, ‘পথচলার আবার শুরু…’, ‘১০ বছর পর…’, ‘সে আবার ঘরে…’-এরকম নানা ক্যাপশনের ছবি ও ভিডিও একের পর এক পোস্ট করা হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির সামাজিক মাধ্যমের পাতাগুলোয়। ক্লাবের সঙ্গে জেমস ট্র্যাফোর্ডের সম্পর্কই যে এতটা নিবিড়!
যে ক্লাবের একাডেমিতে নিজেকে গড়ে তুলেছেন, যে আঙিনায় ছিলেন তিনি আট বছর, সেই প্রিয় প্রাঙ্গনে আবার ফিরলেন ট্র্যাফোর্ড। এবার মূল দলের অংশ হয়ে, বড় চ্যালেঞ্জ আর স্বপ্ন নিয়ে। ২২ বছর বয়সী গোলকিপার পাঁচ বছরের চুক্তিতে ফিরলেন ম্যানচেস্টার সিটিতে।
শৈশবের ক্লাবে ‘এক নম্বর’ জার্সি গায়ে চাপাবেন তিনি।
ইংলিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে তাকে দলে পেয়েছে সিটি। দুই বছর আগে তাকে ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে ছেড়ে দিয়েছিল ক্লাবটি।
১২ বছর বয়সে ম্যানচেস্টার সিটির একাডেমিতে পা রেখেছিলেন ট্র্যাফোর্ড। পরে যুব দল হয়ে মূল স্কোয়াডে মাঝেমধ্যে জায়গা পেলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি কখনও। ২০২১ সালে ধারে তৃতীয় বিভাগের দল অ্যাক্রিংটন স্ট্যানলিতে খেলেন তিনি, পরের বছর ধারে খেলেন বোল্টন ওয়ান্ডারার্সে।
ধার পর্ব শেষে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তিনি পাড়ি জমান বার্নলিতে। নতুন ক্লাবের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে তার অভিষেক হয় ম্যান সিটির বিপক্ষেই। ওই মৌসুমে বার্নলির হয়ে ২৮টি ম্যাচ খেলে বেশ নজর কাড়েন তিনি। তবে প্রিমিয়ার লিগ থেকে নেমে যায় বার্নলি।
গত মৌসুমে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখান তিনি ২৯ ম্যাচে জালে বল ঢুকতে না দিয়ে! এক ম্যাচেই পেনাল্টি ঠেকিয়েছিলেন দুটি। মৌসুমের ৪৬ ম্যাচে স্রেফ ১৬ গোল হজম করে আবার প্রিমিয়ারে জায়গা করে নেয় বার্নলি।
এমন পারফরম্যান্সের পর তার দিকে আবার নজর পড়ে সিটির। তাকে পেতে প্রবল আগ্রহী ছিল নিউক্যাসল ইউনাইটেডও। তবে সিটির আগ্রহের পর আর অন্য ক্লাবের বাস্তব সুযোগ খুব একটা ছিল না।
ট্র্যাফোর্ড নিজেও রোমাঞ্চিত সিটিতে ফিরতে পেরে।

“সিটিতে পুনরায় যোগ দেওয়া আমার ও আমার পরিবারের জন্য খুবই বিশেষ মুহূর্ত। সবসময়ই স্বপ্ন দেখেছি, ম্যানচেস্টার সিটিতে আবার ফিরে আসব। এই জায়গাকে নিজের বাড়ি মনে করি আমি। সত্যিই স্পেশাল একটি ক্লাব এটি, অসাধারণ সব লোক এটিকে অনন্য জায়গা করে তুলেছে কাজ করার জন্য ও খেলার জন্য।”
“আমি এখনও অনেক তরুণ এবং শিখতে ও উন্নতি করতে ক্ষুধার্ত। আমি জানি, যতটা সেরা গোলকিপার হয়ে উঠতে পারি, সেখানে পৌঁছতে ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে সেরা পরিবেশ আর পাব না।”
জাতীয় দলে এখনও খেলার সুযোগ না পেলেও ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৮, অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-২১ দলে তিনি খেলেছেন। ২০২৩ অনূর্ধ্ব-২১ ইউরোতে ছয় ম্যাচে একটি গোলও হজম করেননি তিনি, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যে নজির আগে ছিল না। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি ঠেকিয়ে ও ফিরতি শটও ফিরিয়ে ইংলিশদের শিরোপা জয়ে রাখেন বড় অবদান।
সিটির গোলবারে জায়গা করে নিতে তাকে লড়তে হবে এদেরসন ও স্টেফান ওর্টেগার সঙ্গে। নতুন মৌসুমে সিটি শিরোপা পুনরুদ্ধার শুরু করবে ১৬ অগাস্ট উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।