১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শেষ কয়েক মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে জিতে সেমি-ফাইনালে রেয়াল মাদ্রিদ

যোগ করা সময়ে কিলিয়ান এমবাপের দুর্দান্ত গোলের পর, এক জন কম নিয়ে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে হারিয়েছে শাবি আলোন্সোর দল।

শেষ কয়েক মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে জিতে সেমি-ফাইনালে রেয়াল মাদ্রিদ
দারুণ ছন্দে এগিয়ে চলা গন্সালো গার্সিয়া ম্যাচের দশম মিনিটেই রেয়াল মাদ্রিদকে এগিয়ে নেন। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Jul 2025, 02:43 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:19 PM

যোগ করা সময় চলে তখন, অনায়াস জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রেয়াল মাদ্রিদ। এরপর, হঠাৎ সবকিছু বদলে গেল। একটি গোল শোধ করে রোমাঞ্চ ছড়াল বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। পরক্ষণেই দুর্দান্ত এক গোলে দুই গোলের ব্যবধান পুনরুদ্ধার করলেন কিলিয়ান এমবাপে। নাটকীয়তার তখনও অবশ্য ঢের বাকি। পরের মিনিটে লাল কার্ড দেখলেন ডিন হাউসেন এবং পেনাল্টি থেকে আরেক গোল করল ডর্টমুন্ড। একেবারে অন্তিম মুহূর্তে দারুণ এক সেভ করে রেয়ালকে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে তুললেন থিবো কোর্তোয়া।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে কোয়ার্টার-ফাইনালে ৩-২ গোলে জিতেছে রেয়াল মাদ্রিদ। 

গন্সালো গার্সিয়ার গোলে শাবি আলোন্সোর দল এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফ্রান গার্সিয়া। মাক্সিমিলিয়ান ব্যবধান কমানোর পর রেয়ালের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপে। শেষ মিনিটে ডর্টমুন্ডের শেষ গোলটি করেন সেগু গিগাসি।

এমবাপের জায়গায় সুযোগ পেয়ে নিয়মিত কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়ে যাচ্ছেন গার্সিয়া। এদিনও ম্যাচের শুরুতেই দলকে এগিয়ে নেন তিনি। দশম মিনিটে আর্দা গিলের দারুণভাবে বাড়ানো বল ছয় গজ বক্সে পেয়ে, জায়গা বানিয়ে সাইড-ফুট ভলিতে গোলটি করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।

এই টুর্নামেন্টে টানা তিন ম্যাচে এবং পাঁচ ম্যাচে চতুর্থ গোলটি করলেন রেয়ালের যুব দল থেকে উঠে আসা গার্সিয়া।

১০ মিনিট পর আরেক গার্সিয়ার গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইউরোপের সফলতম দলটি। ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে বাঁ পায়ের শটে গোলটি করেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার ফ্রান গার্সিয়া।

পজেশন রাখায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও, আক্রমণে আধিপত্য ধরে রেখে এগিয়ে যায় রেয়াল। প্রথমার্ধে দলটির গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার তেমন কোনো পরীক্ষা নিতে পারেনি ডর্টমুন্ড।

বিরতির পর খেলার গতির কিছুটা কমে আসে। ডর্টমুন্ড পাল্টা আক্রমণে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করতে থাকে, যদিও উল্লেখযোগ্য খুব বেশি কিছু করতে পারছিল না তারা।

৬৭তম মিনিটে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন রেয়াল কোচ; ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ড, ভিনিসিউস জুনিয়র ও জুড বেলিংহ্যামকে তুলে মাঠে নামান কিলিয়ান এমবাপে, দানি সেবাইয়োস ও লুকা মদ্রিচকে।

তাতে দলটির মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ বাড়লেও, আক্রমণে খুব বেশি কিছু করতে পারছিল না কেউ। তবে লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের হাতেই।

কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষের পর পাল্টে যায় চিত্রপট। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বড় ভুল করে বসেন আন্টোনিও রুডিগার; বল ক্লিয়ার করার সুযোগ পেয়েও উল্টো প্রতিপক্ষের পায়ে তুলে দেন তিনি। প্রতিপক্ষের ওই উপহার পেয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি মাক্সিমিলিয়ান।

ডর্টমুন্ড সমর্থকদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়, যদিও সেটা মিনিটখানেকের জন্য। পাল্টা আক্রমণে আর্দা গিলেরের দারুণ ক্রস ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়ে, অ্যাক্রোবেটিক ওভারহেড কিকে স্কোরলাইন ৩-১ করেন ফরাসি তারকা এমবাপে।

দুই মিনিটের মাথায় আবার লড়াইয়ে নতুন রং লাগে। ডি-বক্সে সেগু গিগাসিকে পেছন থেকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ডিন হাউসেন। আর ওই পেনাল্টি থেকে নিজেই গোল করেন গিনির ফরোয়ার্ড গিগাসি।

ম্যাচে তথন মোটে এক মিনিটের মতো খেলা বাকি। লড়াই অতিরিক্ত সময়ে নেওয়ার লক্ষ্যে শেষ চেষ্টায় ওঠে ডর্টমুন্ড, তাতে প্রায় সফলও হয়ে গিয়েছিল তারা, জোরাল শট নেন মার্সেল সাবিৎজার, ডান দিকে লাফিয়ে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বল গ্লাভসে নিয়ে দলকে স্বস্তি এনে দেন কোর্তোয়া।

এরপরই শেষের বাঁশি বাজান রেফারি, হতাশায় মুখ ঢেকে ফেলে ডর্টমুন্ডের অনেকে, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে রেয়াল মাদ্রিদ।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবারের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী পিএসজির মুখোমুখি হবে রেয়াল মাদ্রিদ।

শেষ পর্যন্ত ৯ জন নিয়েই বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে দিল পিএসজি