উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে তৃতীয় দিনের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ কোচ গুরুত্ব দিয়েছেন সব বিভাগেই।
Published : 18 Oct 2024, 04:48 PM
দিন গড়াচ্ছে, এগিয়ে আসছে পাকিস্তান ম্যাচের ক্ষণ। সাবিনা-মনিকাদের অনুশীলনের তীব্রতা বাড়ছে। খেলোয়াড়দের কারো চোখেমুখে দেখা মিলছে নির্ভার হাসির ঝিলক, কারো কারো কথায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে স্নায়ু চাপের উপস্থিতি। অনুশীলনে পিটার জেমস বাটলারের ব্যস্ততা বেড়েছে আরও। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে তৃতীয় দিনের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ কোচ গুরুত্ব দিয়েছেন সব বিভাগেই।
কাঠমাণ্ডুর আনফা গ্রাউন্ডে শুক্রবার সকালে অনুশীলনে সেরেছে বাংলাদেশ। উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের বিপক্ষে আগামী রোববারের ম্যাচ দিয়ে মুকুট ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে দল। সবকিছু গুছিয়ে নিতে তাই বাটলারের হাতে সময় নেই বেশি।
মাঠে পৌঁছেই বাটলার ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ছক কষতে। ম্যাচ অনুশীলনে সাবিনা খাতুন সহজ একটি সুযোগ মিস করে যখন হতাশায় মাথা ঝাকাচ্ছিলেন, বাটলারকেও দেখা গেল একই ভঙ্গিতে মাথা-হাত নাড়াতে। দূর থেকেই চিৎকার করে অধিনায়ককে থামতে বলে শামসুন্নাহার সিনিয়রকে ফের একইভাবে ক্রস বাড়াতে বললেন, এবার সাবিনা হতাশ করেননি, নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নিলেন। বাটলার চেচিয়ে বললেন, ‘গুড সাবিনা, গুড।’
খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফসহ সবাইকে নিয়ে আগের দিন ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন বাটলার। পাকিস্তানের শক্তি-দুর্বলতা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে দশরথ স্টেডিয়ামে যাওয়া তার। এদিনের অনুশীলনে শিউলি আজিম, মাসুরা পারভীনের সাথে আফিদা খন্দকারকে খেলিয়ে রক্ষণভাগ পরখ করে নিলেন আবারও। আঁখি খাতুনের শূন্যতা পূরণের দায়িত্ব আফিদার কাঁধে ওঠার সম্ভাবানাই বেশি।
অনুশীলনে পোস্টে ব্যস্ত সময় কাটালেন রূপনা চাকমা। ভারতের বিপক্ষে গোল পাওয়া পাকিস্তানের সুহা হিরানি, কাইলা মারিয়া সিদ্দিকিদের সামলাতে হবে তাকে। ভারত ম্যাচে সুহা কয়েকটি সুযোগ নষ্টও করেন। জালের দেখা না পেলেও ওই ম্যাচে পায়ের কারিকুরি দেখিয়েছিলেন রামিন ফারিদ।
পাকিস্তানের গতিময় ফরোয়ার্ডদের সামলাতে ডিফেন্ডারদের মতো অনুশীলনে বাড়তি ঘাম ঝরালেন রূপনা। গতবার পাকিস্তানকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ম্যাচে পোস্টে শুরুর মিনিট দশেক যা একটু ব্যস্ত ছিলেন তিনি, বাকি সময়ে ছিলেন নির্ভার। এবার যে ব্যস্ত সময় কাটাতে হবে, তা বুঝে নিয়েছেন গত আসরের সেরা গোলরক্ষক। মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বলের সাথে তিনি কাজ করলেন আলাদাভাবে। রূপনার প্রস্তুতি নিয়ে খুশি গোলরক্ষক কোচ উজ্জ্বলও।
“দুই বছর আগে এখানে (নেপালে) আমাদের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় রূপনার যে দারুণ ভূমিকা ছিল, আমার বিশ্বাস, এবার সে পোস্টে আরও ভালো করবে। দুই বছরে ওর রিফ্লেক্স, বলের ফ্লাইট বোঝার সামর্থ্য আরও বেড়েছে। বাকি যে দুজন গোলরক্ষক আছে (ইয়ারজান বেগম ও মিলি আক্তার), ওরা ভালো করছে অনুশীলনে।”
রক্ষণের প্রস্তুতি নিয়ে শামসুন্নাহার সিনিয়র অবশ্য একটু চাপে থাকার কথা আড়াল করেননি। আঁখির অভাব আফিদা বা নতুন কেউ কতটা পূরণ করতে পারবে, তা নিয়ে একটু সন্দিহান এই ডিফেন্ডার।
“যেহেতু আমরা কালকের ম্যাচ দেখেছি, ভারতের বিপক্ষে খেলেছে পাকিস্তান, ওরা কিন্তু খুবই ভালো খেলেছে। আমরা পাকিস্তানকে আগে যতটা দুর্বল ভেবেছিলাম, ওদের খেলা দেখে কিন্তু মনে হয়নি ওরা দুর্বল। তারা শক্তিশালী।”
পাকিস্তানের বর্তমান দলটিকে শক্তিশালী মানছেন ঋতুপর্নাও। তবে গত আসরে পাকিস্তানকে গ্রুপ পর্বের দেখায় উড়িয়ে দেওয়ার স্মৃতি আওড়ে এই ফরোয়ার্ডের কণ্ঠে শোনা গেল আত্মবিশ্বাসের প্রতিধ্বনি।
“আমরাও প্রস্তুত। আমরাও পাকিস্তানের থেকে কম নই। আমাদের যে খেলা, সেটার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলার চেষ্টা করব।”