১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লুইস রুবিয়ালেস: স্পেনের কোচদের পদত্যাগ

হোর্হে ভিলদা ছাড়া স্পেন নারী জাতীয় দলের বাকি সব কোচ সরে দাঁড়িয়েছেন।

লুইস রুবিয়ালেস: স্পেনের কোচদের পদত্যাগ

স্পেন নারী জাতীয় দলের প্রধান কোচ হোর্হে ভিলদার (বাঁয়ে) সঙ্গে কোচিং স্টাফের অন্য সদস্যরা।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Aug 2023, 11:21 PM

Updated : 26 Aug 2023, 11:21 PM

চুমু কাণ্ডে সাময়িক নিষিদ্ধ লুইস রুবিয়ালেসের উপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। প্রধান কোচ হোর্হে ভিলদা ছাড়া স্পেন নারী জাতীয় দলের বাকি সব কোচ পদত্যাগ করেছেন।

সহকারি কোচ মন্তসে তোমে, হাভিয়ের লের্গা ও ইউজেনিও গনসালো মার্তিন, ফিজিও ব্লাঙ্কা রোমেরো মোরালেদা এবং গোলকিপিং কোচ কার্লোস সানচেস সরে দাঁড়িয়েছেন।

বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক জাতীয় দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছয় জন কোচও পদত্যাগ করেছেন।  

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা শনিবার তিন মাসের জন্য সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে রুবিয়ালেসকে। সদ্য সমাপ্ত নারী বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল শেষে জেনিফার এরমোসোকে চুমু দেওয়ার ঘটনায় এই শাস্তি পেয়েছেন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) প্রধান।

এরপর এলো কোচদের পদত্যাগের ঘোষণা।

“নিচে যাদের নাম আছে তারা আরএফইএফ সভাপতি যে কাণ্ড ঘটিয়েছেন, এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।”

“তিনি এমন একটা গল্প বলেছেন, সেটায় কোনোভাবেই জেনিফার এরমোসো যা অনুভব করেছে তা প্রতিফলিত হয়নি। জেনিফার বলেছেন,তিনি ‘আগ্রাসনের শিকার।’ সভাপতি যে অগ্রহণযোগ্য মনোভাব দেখিয়েছেন এবং বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে তারা নিজেদের দায়িত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছেন।”

ফেডারেশনের জরুরি সভায় শুক্রবার রুবিয়েলেস জানান, তিনি পদত্যাগ করবেন না। সে সময় হাত তালি দিয়ে তার সিদ্ধান্তে স্বাগত জানিয়েছিলেন স্পেনের পুরুষদের জাতীয় দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তিনিও শনিবার এক বিবৃতিতে রুবিয়েলেসের সমালোচনা করেছেন।

বিশ্বকাপ ফাইনালে গত রোববার ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেনের মেয়েরা। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পদক পরিয়ে দেওয়ার সময়ে ওই বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দেন রুবিয়ালেস। সেখানে স্পেন দলের সব ফুটবলারকেই তিনি আলিঙ্গন করেন, গালে ও কপালে চুমু এঁকে দেন অনেকের। তবে এরমোসোকে বেশ কিছুটা সময় আলিঙ্গনে জড়িয়ে রেখে পরে দুহাত দিয়ে মাথায় ধরে ঠোঁটে চুমু দিয়ে বসেন ৪৫ বছর বয়সী রুবিয়ালেস।

প্রবল সমালোচনার মুখে ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন রুবিয়ালেস। গত বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয় ফিফা।

সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে, গত শুক্রবার আরএফইএফ-এর ডাকা জরুরি সভায় পদত্যাগ করতে পারেন রুবিয়ালেস। তবে সেখানে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কোনোভাবেই দায়িত্ব ছাড়বেন না। পাশাপাশি বিতর্কিত ওই ঘটনাটি ‘দুজনের সম্মতিতে’ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে তা অস্বীকার করেন এরমোসো। নারী ফুটবলারদের সংগঠন ফুটপ্রো ইউনিয়নের একটি বিবৃতিতে বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তার সম্মতি ছিল না এতে।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে এরই মধ্যে স্পেনের ৮১ জন খেলোয়াড় জানিয়েছে, রুবিয়ালেসকে বিদায় করা না হলে দেশের হয়ে আর খেলবেন না তারা। ফুটপ্রো ইউনিয়নের ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন জাতীয় দলের বিশ্বকাপ জয়ী ২৩ জন ফুটবলারও।

এরই মধ্যে রুবিয়ালেসের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্পেন সরকার। স্পেনের ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের প্রধান ভিক্তর ফ্রাঙ্কোস গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ক্রীড়া আদালতে দোষী প্রমাণিত হলে সাময়িক নিষিদ্ধ হবেন রুবিয়েলস।

আরএফইএফ অবশ্য পাশে দাঁড়িয়েছে রুবিয়ালেসের। এরমোসোর বক্তব্যকে মিথ্যাচার দাবি করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা।

ফিফার দেওয়া নিষেধাজ্ঞার ঘন্টাখানেক পর আরএফইএফ এক বিবৃতিতে রুবিয়ালেস বলেন, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে লড়াই চালিয়ে যাবেন তিনি। এরপরই এসেছে কোচদের পদত্যাগের ঘোষণা।