Published : 02 Jul 2026, 08:13 AM
কিছুটা জায়গা করে ডান পায়ে শট নিলেন হ্যারি কেইন। ভারসাম্য হারিয়ে পড়েও গেলেন। তবে, বল জালে জড়াতেই উঠে এক ছুটে স্লাইড দিয়ে, মাঠের কোণে গিয়ে উচ্ছ্বাসে মেললেন ডানা। সেই আনন্দ কেইনের কণ্ঠে ঝরল ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়াতেও। বললেন, এখন সময় উদযাপনের।
আটলান্টায় অবশ্য একটা সময়, এই উচ্ছ্বাস উবে যাওয়ার শঙ্কাও জেগেছিল প্রবলভাবে। ইংল্যান্ডকে চমকে দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল ডিআর কঙ্গো। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে আরেকটি অঘটনার সম্ভাবনাও দেখতে শুরু করেছিলেন অনেকে।
অবশেষ ৭৫তম মিনিটে ইংল্যান্ড পথ দেখালেন কেইন। লিওনেল এমপাসির দুর্ভেদ্য দেয়াল তিনি ভেদ করলেন দারুণ হেডে। এর ৯ মিনিট পর নিখুঁত শটে আবারও খুঁজে নিলেন জাল। শুরুর ধাক্কা সামলে, ২-১ গোলের জয়ে, শেষ ষোলোয় উঠল ইংল্যান্ড। ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায়, কেইনের কণ্ঠে ভর করল আবেগ।
“সত্যি বলতে, অসাধারণ অনুভূতি হচ্ছে। কী পাগলাটে একটা ম্যাচ! তারা কঠিন প্রতিপক্ষ এবং প্রথম কুলিং ব্রেকের পর থেকে আমরা তুলনামূলভাবে ভালো খেললাম। তাদের গোলরক্ষক অবিশ্বাস্য কিছু সেভ করল। আমরা নায়ক হওয়ার মুহূর্ত নিয়ে কথা বলেছিলাম নিজেদের মধ্যে এবং বলেছিলাম, যে কেউ নায়ক হতে পারে। আজ সেটা আমি।
“সপ্তাহজুড়ে আমরা কেবল নিজেদের খেলাটা খেলার কথাই বলেছি। তবে, নিশ্চিতভাবে, এখনও অনেক কিছু নিয়ে কাজ করতে হবে আমাদের। কেননা, এই রাউন্ডগুলো কেবল পরের ধাপে যাওয়ার জন্যই (হেরে গেলেই বিদায়)। আমরা টুর্নামেন্টের সেই অংশে আছি, যখন জিততে হলে কষ্ট করতে হয় এবং আমরা সেটা আজ করেছি।”
নকআউট পর্বের শুরুতে পাওয়া জয় উপভোগ করতে চান কেইন। এই জয়ের রেশ সামনের পথচলায় টেনে নিতেও আশাবাদী দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
“অন্য সব দেশের মতোই আমরা। আমরা পরের ধাপে উঠেছি, সময়টা উপভোগ করুন। আমি চাই, সবাই এই জয় সমর্থকদের সাথে উপভোগ করুক এবং এর চার দিন পর আমরা আবার মাঠে নামব।
“ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের পর আমরা বদলি খেলোয়াড়দের ম্যাচে প্রভাব রাখা নিয়ে কথা বলেছিলাম এবং আপনারা আবারও তা দেখলেন। ৯০ মিনিট ধরে আমাদের আটকে রাখা কঠিন। সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই আমি খুশি এবং আশা করি, জয়ের ধারা ধরে রাখতে পারব আমরা।”
কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ড খেলবে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে সবগুলোতে জয়ী মেক্সিকোর বিপক্ষে। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি হবে বাংলাদেশ সময় আগামী সোমবার সকালে।