হল অব ফেমে জায়গা পেয়ে অশ্রুসজল ফেদেরার
জীবনের বিশেষ ক্ষণে দাঁড়িয়ে এই মহাতারকা দৃষ্টি দিলেন এমন কিছু পরিসংখ্যানে, যা হয়তো অনেকে ভাবেও না।
টেনিসের সব কীর্তিমানদের সামনে ইন্টারন্যাশনাল টেনিস হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হলেন আরেক কিংবদন্তি রজার ফেদেরার। অসাধারণ এই প্রাপ্তিকে তিনি বর্ণনা করলেন ‘জীবনের সবচেয়ে সেরা মুহূর্তগুলোর একটি’ হিসেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে রোববারের এই অনুষ্ঠানে বিলি জিন কিং ও জন ম্যাকেনরোসহ উপস্থিত ছিলেন খেলাটির আরও অনেক তারকা। তাদের সামনে এত বড় সম্মান পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এককে ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী ফেদেরার। ফিরে তাকান সাফল্যে ভরা ক্যারিয়ারের দিকে।
১৯৯৮ সালে ১৬ বছর বয়সে মূল ট্যুর প্রতিযোগিতায় অভিষেকের পর, টেনিস কোর্টে অবিশ্বাস্য এক সফর শেষে ২০২২ সালে ক্যারিয়ারের ইতি টানেন ফেদেরার। উইম্বলডনে রেকর্ড আটবার চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। এছাড়া ছয়টি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, পাঁচটি ইউএস ওপেন ও একটি ফরাসি ওপেন জেতেন এই সুইস তারকা।
অনেক অনেক অর্জনের পরও এদিনের প্রাপ্তি যে কত বড়, সেটাই ফুটে উঠল ফেদেরারের কণ্ঠে
“আমার জীবনের সবচেয়ে সম্মানের অর্জনগুলোর একটি এটি।
“তারা এটাকে হল অব ফেম বলে, কিন্তু খ্যাতি অর্জন কখনোই লক্ষ্য ছিল না। আমার লক্ষ্য ছিল জীবনটা এমন কিছু করে কাটানো যেটা করতে আমি ভালোবাসি, সেইসব মানুষদের সঙ্গে কাটানো এই খেলাকে আমার মতোই যারা ভালোবাসে।”
পুরুষ এককে ফেদেরারের চেয়ে কেবল দুইজন বেশি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিততে পেরেছেন- স্পেনের রাফায়েল নাদাল ২২টি ও সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচ ২৪টি।
২০০৩ সালে উইম্বলডনে প্রথম মেজর জয়ের স্বাদ পান ফেদেরার এবং ক্যারিয়ারে ৩১০ সপ্তাহ তিনি ছিলেন র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে- পরে এই রেকর্ড ভেঙে দেন জোকোভিচ।
অলিম্পিকসেও সেরা হওয়ার স্বাদ পেয়েছেন ফেদেরার। স্তানিস্লাস ভাভরিঙ্কার সঙ্গে জুটি বেঁধে ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকসে সোনার পদক জয় করেন তিনি, আর ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকসে এককে পান ব্রোঞ্জ।
২০১৪ সালে প্রথমবার ডেভিস কাপ জয়ী সুইস দলেরও সদস্য ছিলেন ফেদেরার।
টেনিসের মূল ঘরানার প্রতিযোগিতায় ফেদেরারের প্রথম পা পড়ে ১৩ বছর বয়সে, বল বয় হিসেবে। সেই তিনি জীবনের এই বিশেষ ক্ষণে দাঁড়িয়ে দৃষ্টি দিলেন এমন কিছু পরিসংখ্যানের ওপর, যা হয়তো অনেকে ভাবেও না।
“আমি এমন কিছু সংখ্যার কথা বলছি, যা সত্যিই একটা ছবি আঁকে। আমার প্রথম এটিপি ট্যুর ১৯৯৮ থেকে, আমার অবসরের সময় ২০২২ সালের মধ্যে আমি পাঁচ হাজারের বেশি হেডব্যান্ড পরেছি। বিয়ন বর্গ ও জন ম্যাকেনরোর মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি।
“আর এটাকেই যদি আপনারা সন্তোষজনক মনে করেন, আমি প্রায় সাত হাজার জোড়া মোজা পরেছি। এটা হয়তো আমার অনেক প্রতিপক্ষের চেয়ে দ্বিগুণ, কারণ আমি দুটি করে পরতাম। কিন্তু (এতকিছুর পরও) এখানে থাকতে পারার অর্থ কী, এটা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
চোখের জল মুছে ফেদেরার ধন্যবাদ জানান তার স্ত্রী মির্কা, টেনিস আদর্শ স্টেফান এডবার্গ ও নিজের প্রতিটি ম্যাচে থাকা প্রত্যেক বল বয়কে।
ক্যারিয়ারে একাধিক প্রজন্মের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন ফেদেরার; আন্দ্রে আগাসি ও লেইটন হিউইট থেকে অ্যান্ডি রডিক এবং নাদাল থেকে জোকোভিচ।
“আমার টিস্যু ও সানগ্লাস দরকার এবং এমন সবকিছু প্রয়োজন যা আমাকে এই মুহূর্তে রক্ষা করবে (অশ্রুসিক্ত চোখ লুকাবে)। কী একটা অবস্থা।
“যেমন করে আপনারা বলেন, আমি এখনও টেনিসকে আমার প্রেমপত্র লিখছি। খেলোয়াড় হিসেবে আমার সময় শেষ হয়েছে, কিন্তু টেনিস সবসময় আমার জীবনে আমার সব প্রিয় জিনিসগুলোর মাঝে যোগসুত্র হয়ে থাকবে: আমার পরিবার, আমার বন্ধুত্ব, গত ৪০টি বছর, এবং যে ভবিষ্যৎ সামনে আসবে।
“এই সবকিছুই হয়েছে টেনিসের জন্য।”
