ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
Published : 03 May 2026, 10:32 PM
ম্যাচের ১৪ মিনিটের মধ্যেই দুই গোলে এগিয়ে গেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই পাল্টে গেল দৃশ্যপট; প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগে ঘুরে দাঁড়াল লিভারপুল। পরে আরেক গোল করে দারুণ এক জয়ের আনন্দে ভাসল ইউনাইটেড।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রোববার প্রিমিয়ার লিগের জমজমাট লড়াইয়ে ৩-২ গোলে জিতেছে মাইকেল ক্যারিকের দল।
মাথেউস কুইয়া ও বেনিয়ামিন শেশকোর গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, দমিনিক সোবোসলাই ও কোডি হাকপোর গোলে সমতায় ফেরে লিভারপুল। পরে দারুণ এক গোলে ব্যবধান গড়ে দেন কবি মেইনু।
দুই মৌসুম পর দলটির চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরাও নিশ্চিত হয়ে গেছে।
হুবেন অ্যামুরির কোচিংয়ে যে দল জয়ের পথ হারিয়ে ফেলেছিল, সেই ইউনাইটেডই ক্যারিকের হাত ধরে ধারাবাহিক সাফল্যে ফিরেছে। অন্তর্বর্তীকালীন এই কোচের সময়ে লিগে ১৪ ম্যাচ খেলে টানা তৃতীয় ও মোট ১০টি জয় পেল তারা।
৩৫ ম্যাচে ১৮ জয় ও ১০ ড্রয়ে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে ইউনাইটেড। তাদের চেয়ে ৬ পয়েন্ট কম নিয়ে চার নম্বরে লিভারপুল।
কিছুটা সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় ম্যাচের শুরুটা দারুণ হয় ইউনাইটেডের। কর্নারে প্রতিপক্ষের দুটি প্রচেষ্টা আটকে দিলেও, পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হয় লিভারপুল। তৃতীয় প্রচেষ্টায় ফাঁকায় বল পেয়ে জোরাল শট নেন মাথেউস কুইয়া এবং আলেক্সিস মাক আলিস্তেরের গায়ে লেগে দিক পাল্টে বল জালে জড়ায়।
এবারের লিগে সেট পিস থেকে (পেনাল্টি বাদে) দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭টি গোল হজম করল লিভারপুল। এভাবে সর্বোচ্চ ১৯টি গোল খেয়েছে বোর্নমাউথ।
আর চলতি আসরে কর্নারের ফলশ্রুতিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের (১৩) চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছে আর্সেনাল (১৭) ও টটেনহ্যাম হটস্পার (১৫)।
চাপ ধরে রেখে খেলতে থাকে ইউনাইটেড এবং আট মিনিট পর আবার ভাগ্য সহায় হয় তাদের। ব্রুনো ফের্নান্দেসের হেড গোলরক্ষক উডম্যান ঠেকিয়ে দেন ঠিকই, কিন্তু সামনেই থাকা বেনিয়ামিন শেশকোর ঊরুতে লেগে বল গোললাইন পেরিয়ে যায়। শেষমুহূর্তে স্লোভেনিয়ার স্ট্রাইকার শেশকোর আঙুল বলে স্পর্শ করেছিল কিনা, জাগে সন্দেহ; তবে ভিএআর অনেকটা সময় নিয়ে গোলের সিদ্ধান্ত জানায়।
বিরতির পর খেলা শুরু হতেই নতুন মোড় নেয়। নিজেদের দোষেই ৯ মিনিটে দুটি গোল হজম করে স্বাগতিকরা।
৪৭তম মিনিটে মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের ভুল পাস ধরে দ্রুত এগিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে ব্যবধান কমান সোবোসলাই। এবারের লিগে এটা তার ষষ্ঠ গোল। মৌসুমে সব মিলিয়ে হাঙ্গেরির মিডফিল্ডারের গোল হলো ১৩টি।
কিছুক্ষণ পর গোলরক্ষকের মারাত্মক ভুলে দ্বিতীয় গোলটি হজম করে ইউনাইটেড। ডি-বক্সের বাইরে কাসেমিরোকে পাস দিতে গিয়ে গড়বড় করেন সেন লামেন্স, ছুটে এসে মাক আলিস্তের বল ধরে ডি-বক্সে বাড়ান সোবোসলাইকে, আর তার পাস ধরে অনায়াসে প্লেসিং শটে সমতা টানেন হাকপো।
মেইনুর নৈপুণ্যে ৭৭তম মিনিটে আবার এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে গোলটি করেন তরুণ ইংলিশ মিডফিল্ডার। জায়গা থেকে নড়ার সুযোগ পাননি গোলরক্ষক।
ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জয় করেন ২১ বছর বয়সী মেইনু।
বাকি সময়ে আর নতুন কোনো নাটকীয়তা জাগাতে পারেনি লিভারপুল।
আসরে প্রথম দেখায় লিভারপুলের মাঠেও জিতেছিল ইউনাইটেড, ২-১ গোলে। এবার প্রতিশোধের আশা জাগালেও, পারল না দলটি। লিগে টানা তিন জয়ের পর আবার হারল আর্না স্লটের দল।