কোপা দেল রে
Published : 04 Mar 2026, 04:11 AM
‘অসম্ভবকে সম্ভব’ করার কথা বলেছিলেন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তিন গোল করে অবিশ্বাস্য কিছুর আশাও জাগাল তার খেলোয়াড়রা। তবে পরে আর নাটকীয় কিছু হলো না। দীর্ঘ এক যুগ পর কোপা দেল রের ফাইনালে উঠল আতলেতিকো মাদ্রিদ।
কাম্প নউয়ে মঙ্গলবার রাতে সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগে বার্সেলোনা ৩-০ গোলে জিতলেও, দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলের অগ্রগামিতায় শিরোপার মঞ্চে জায়গা করে নেয় দিয়েগো সিমেওনের দল।
ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে প্রথমার্ধে দুই গোল করে বার্সেলোনা। মার্ক বের্নাল দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর ব্যবধান বাড়ান রাফিনিয়া।
নিজের দ্বিতীয় গোল করলেন যখন বের্নাল, তখনও বাকি ছিল নির্ধারিত সময়ের ১৮ মিনিট, কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও আরেকটি গোলের দেখা আর পায়নি গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
২০১২-১৩ মৌসুমে দশমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ের পর, এই প্রথম ফাইনালে উঠল আতলেতিকো।
ঘরের মাঠে কতটা দাপট দেখিয়েছে বার্সেলোনা, সেটার প্রমাণ পরিসংখ্যানেও ফুটে উঠছে। প্রায় ৭১ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২১টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে কাতালান দলটি। আতলেতিকোর সাত শটের দুটি লক্ষ্যে ছিল।
চার গোলের ব্যবধান ঘোচাতে শুরু থেকে আক্রমণ করতে থাকে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় মিনিটেই গোল পেতে পারত তারা। বক্সের বাইরে থেকে ফের্মিন লোপেসের বুলেট গতির শট লাফিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন আতলেতিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুস্সো।
দ্বাদশ মিনিটে বড় এক ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জুল কুন্দে। তার বদলি নামেন তরুণ ডিফেন্ডার আলেহান্দ্রো বাল্দে।
চতুর্দশ মিনিটে একটি হাফ-চান্স পায় বার্সেলোনা, কিন্তু রাফিনিয়ার নিচু শট পাশের জালে লাগে। একটু পর বের্নালের শট অনায়াসে ঠেকান আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক মুস্সো।
২২তম মিনিটে ভালো একটি সুযোগ পান ফেররান তরেস, কিন্তু ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।
বেশিরভাগ সময় ঘর সামলাতে ব্যস্ত থাকা আতলেতিকো ২৭তম মিনিটে সুযোগ পেয়ে যায় একটি। তবে বক্সের ভেতর থেকে অঁতোয়ান গ্রিজমানের শট ঠেকাতে বেগ পেতে হয়নি হোয়ান গার্সিয়াকে।
২৯তম মিনিটে তরেসের নিচু শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন মুস্সো আর ওই কর্নার থেকেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। ছোট করে নেওয়া কর্নারে বল পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে দারুণ নৈপুণ্যে বক্সে ঢুকে গোলমুখে পাস দেন লামিনে ইয়ামাল, সহজেই জালে পাঠান অরক্ষিত বের্নাল।
৩৪তম মিনিটে রাফিনিয়ার হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যে থাকেনি। প্রথমার্ধের তিন মিনিট যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আরেকটি সুযোগ পায় আতলেতিকো। মার্কোস ইয়োরেন্তের ক্রসে আদেমোলা লুকমানের হেড পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
পরের মিনিটেই পেদ্রি বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। ঠান্ডা মাথার স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন আতলেতিকোর হুলিয়ান আলভারেস। ঝাঁপিয়ে জাল অক্ষত রাখেন গার্সিয়া। পরের মিনিটে রাফিনিয়ার ফ্রি-কিক ফিরিয়ে দেন মুস্সো।
৫৫তম মিনিটে দুর্দান্ত সেভে জোয়াও কান্সেলোকে হতাশ করেন মুস্সো। পরের মিনিটে বের্নালের শটও ঠেকান তিনি, যদিও এ যাত্রায় অফসাইডে ছিলেন রাফিনিয়া।
৬৪তম মিনিটে জোড়া পরিবর্তন আনেন ফ্লিক; লোপেস ও তরেসের জায়গায় দানি ওলমো ও মার্কাস র্যাশফোর্ডকে নামান তিনি।
শুরুতে কুন্দের বদলি নামা বাল্দে অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন ৭১তম মিনিটে। তার বদলি নামেন রোনাল্দ আরাউহো। পরের মিনিটেই স্কোরলাইন ৩-০ করে ফেলে বার্সেলোনা। কান্সেলোর ক্রসে ছয় গজ বক্সে ভলিতে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার বের্নাল।
দুই লেগ মিলিয়ে সমতা ফেরাতে তখন আর একটি গোল চাই বার্সেলোনার।
নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট বাকি থাকতে ভালো একটি সুযোগ পান বার্সেলোনার জেরার্দ মার্তিন, তার শট ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
ছয় মিনিট যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বাইরে মেরে সুযোগ হারান আতলেতিকোর আলেকসান্দার সরলথ। পরের মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ইয়ামাল। বাকি সময়ে আর কোনো সুযোগ পায়নি কেউ। ফাইনালে ওঠার উল্লাসে মাতে আতলেতিকো।
শিরোপা লড়াইয়ে রেয়াল সোসিয়েদাদ অথবা আথলেতিক বিলবাওয়ের মুখোমুখি হবে সিমেওনের দল।