Published : 20 Jun 2026, 01:35 PM
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের আকাশ থেকে খসে গেল উজ্জ্বল এক তারা। দেশের সর্বকালের সেরা হকি খেলোয়াড়দের একজন ও ক্রীড়াঙ্গনের প্রবাদতুল্য ব্যক্তিত্ব আব্দুস সাদেক আর নেই। দেড় বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে শনিবার সকালে তিনি মারা যান রাজধানীর একটি হাসপাতালে। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
তার মূল পরিচয় হকি দিয়ে। দেশের প্রথম হকি অধিনায়ক তিনিই। স্বাধীনতাপূর্ব যুগের সেই বৈরী সময়ে হাজারো বৈষম্যের মধ্যেও অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে শুধু হকিই নয়, ফুটবল ও ক্রিকেটেও ছিল তার বিচরণ। দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী লিমিটেডের (সেই সময়ের আবাহনী ক্রীড়া চক্র) প্রথম ফুটবল ও হকি অধিনায়ক ছিলেন তিনি। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে সংগঠক হিসেবেও ছাপ রেখেছেন দক্ষতার।
ষাটের দশকে আজাদ স্পোর্টিং দিয়ে ফুটবলে তার ক্যারিয়ার শুরু। পরে ভিক্টোরিয়া ও দিলকুশা ক্লাবে খেলেছেন একই সময়ে হকিতেও শুরু হয় তার দাপুটে পথচলা। ‘সেন্টার-হাফ’ পজিশনে সেই সময়ের পূর্ব পাকিস্তানের তিনি ছিলেন অবিসংবাদিত সেরা। পরে পাকিস্তান জাতীয় দলে সুযোগ আদায় করে নেন। সেখানে অবশ্য ‘রাইট-হাফ’ পজিশনেও খেলেছেন।
১৯৬৮ অলিম্পিকসের পাকিস্তান হকি দলেও সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে চোটের কারণে ওই আসরে খেলতে পারেননি। মেক্সিকোতে সেই অলিম্পিকসে অস্ট্রেলিয়াকে ফাইনালে হারিয়ে সোনা জিতেছিল পাকিস্তান। ওই সময়ে পাকিস্তানের সেরা তারকা ও ফাইনালে গোল করা জুনিয়র রাশিদের (আব্দুর রাশিদ) বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলেন সাদেক।
অলিম্পিকসে যেতে না পারলেও পরের বছর পাকিস্তান দলের হয়ে ইউরোপ সফরে যান সাদেক। সেই সফরে অসামান্য পারফরম্যান্সের পর তার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপকভাবে।
স্বাধীনতার পর আবাহনীর ফুটবল ও হকি দলের অধিনায়কত্ব পান তিনি। তার নেতৃত্বে হকিতে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ক্লাবটি।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর আবাহনীর সামনে যখন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, তখন ক্লাবকে টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করেন তিনি। আবাহনী তাকে পরবর্তীতে সম্মানিত তরে আজীবন সদস্যপদ দিয়ে।
ফুটবলে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনে ১৯৭৭ সালে আবাহনীর কোচের দায়িত্ব নেন তিনি এবং প্রথমবার অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ে তার ক্লাব।
ওই বছরই দেশে প্রথম হকি দল গঠন করা হলে তিনি নেতৃত্বভার পান এবং তার নেতৃত্বেই পরের বছর ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে প্রথমবার অংশ নেয় বাংলাদেশ।
পরবর্তীতে খেলা ও কোচিং ছেড়ে আশির দশকে হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ সালে ঢাকায় হকি এশিয়া কাপ আয়োজনে তার সফল ভূমিকা তখন তুমুল প্রশংসিত হয়।
২০১৭ সালে ঢাকায় আবার এশিয়া কাপ আয়োজনেও তিনি নানাভাবে অবদান রেখেছেন।
১৯৯৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পান এই কিংবদন্তি।