Published : 06 Sep 2026, 08:19 PM
আসিয়ান কাপ সামনে রেখে রোববার ছিল নবম দিনের অনুশীলন। কিন্তু বৃষ্টির বাগড়ায় জামাল-মিতুলরা মাঠে প্রস্তুতি নিতে পারেননি। সময় কাটিয়েছেন জিমনেশিয়ামে। তবে, এই কয়দিনের প্রস্তুতি নিয়ে খুশি টমাস ডুলি। চলমান ক্যাম্পে হামজা চৌধুরী, শোমিত সোমদের না পাওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা দেখছেন না বাংলাদেশ কোচ। তার বিশ্বাস, মাঠের লড়াইয়ে হামজারা নিংড়ে দেবেন সেরাটা। তবে, আসছে আসিয়ান কাপ নিয়ে বড় স্বপ্নও দেখছেন না যুক্তরাষ্ট্রের এই কোচ।
ইন্দোনেশিয়ায় আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হবে আসিয়ান কাপ। বাংলাদেশের গ্রুপে আছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া। এই তিন দলই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের (১৮১তম) চেয়ে এগিয়ে। ইন্দোনেশিয়া ১১৮তম, মালয়েশিয়া ১৩৬তম ও সিঙ্গাপুর ১৪৮তম। গ্রুপের পথচলা কঠিন বলে ডুলি বাস্তবে থাকার পক্ষে।
“আসিয়ান কাপে আমার লক্ষ্য? আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে এবং সেভাবেই প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা এমন সব দলের বিপক্ষে খেলব, যারা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে-সিঙ্গাপুর প্রায় ৫০ ধাপ (৩৩) এগিয়ে, মালয়েশিয়া ৫০ ধাপের (৪৫) বেশি, ইন্দোনেশিয়া ৬০ ধাপ (৬৩) এগিয়ে। স্পষ্টতই, কাজটা অত্যন্ত কঠিন।
“আমি খেলোয়াড়দের সবসময় বলি, আমাদের পেছনে থাকা যেকোনো দলের মুখোমুখি হলে আমরা হারতে পারি না। আমাদের মনোযোগ দিতে হবে যেন তারা আমাদের বিপক্ষে গোল দিতে না পারে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা ইন্দোনেশিয়াও এটাই ভাবছে। তাই আমাদের জন্য ম্যাচগুলো নিশ্চয়ই খুব কঠিন ও কষ্টকর হবে। কিন্তু আপনারা সবাই তো বড় দলগুলোর সঙ্গেই খেলতে দেখতে চান। এখন আমরা বড় দলগুলোর মুখোমুখি হচ্ছি এবং আমাদের সাধ্যমতো সেরাটা বের করে আনতে হবে।”
চলমান ক্যাম্পে হামজা চৌধুরী, শোমিত সোমদের মতো প্রবাসীদের পাচ্ছেন না ডুলি। তবে, এতে সমস্যা দেখছেন না তিনি। পেশাদার খেলোয়াড়েরা সব পরিস্থিতির সাথে যেভাবে মানিয়ে নেয়, হামজারাও সেভাবে মানিয়ে নেবেন, বিশ্বাস তার।
“ফিফা উইন্ডোতে ক্লাবগুলো খেলোয়াড়দের ছাড়বে। হামজা হয়তো ২২ তারিখে এসে পৌঁছাবে, কিন্তু আমাদের ম্যাচ হয়তো ২৪ তারিখে। তবে ভালো বিষয় হলো হামজা বা সমপর্যায়ের আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়েরা এই স্তরের ফুটবলের চাপ বোঝে। কীভাবে খেলতে হয় তা তাদের শেখাতে হয় না। হামজা ম্যাচের আগের দিন এলেও পারফর্ম করবে, কারণ সে একজন পেশাদার। তার ইতিবাচক মনোভাব, মানসিকতা ও দক্ষতা রয়েছে; সে দলের অন্যতম নেতা এবং নিজের সেরাটা দেবে। তাই যখনই সে আসবে, আমরা তাকে স্বাগতম জানাব।
“শোমিত, তারিক ও জায়ানের কথা বললে তারা টেকনিক্যালি খুব ভালো এবং ফুটবলটা বোঝে। তারা আরও আগে এলে কি ভালো হতো? অবশ্যই। কিন্তু কিছু খেলোয়াড় আগে আসার অনুমতি পেলেও অনেকেই ক্লাব থেকে ছাড়পত্র পায় না। তাই বিষয়গুলো বেশ কঠিন।”
ক্যাম্পের দলে আগে থেকেই ছিলেন চার গোলকিপার। নতুন যোগ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাইফ কেরাওয়ালা। এদের মধ্যে তিন জনের জায়গা মিলবে চূড়ান্ত স্কোয়াডে। ডুলি অবশ্য বিষয়টি ছেড়ে দিচ্ছেন সময়ের হাতে।
“আমাদের সর্বশেষ আলোচনা অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পাঁচজন গোলকিপারই সমপর্যায়ে রয়েছে। আর এটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন করে তুলছে। জাকার্তা ভ্রমণের জন্য চূড়ান্ত দল বেছে নেওয়া যেমন আমার জন্য কঠিন, গোলকিপারদের ক্ষেত্রেও তাই। স্বাভাবিক নিয়মে এই পাঁচজন থেকে কমিয়ে তিনজন বা চারজনে আনা এবং পরে চূড়ান্ত তিনজনকে রাখার কথা।
“কিন্তু তারা সবাই এত কাছাকাছি পারফর্ম করছে যে, সিদ্ধান্ত নেওয়া আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই জাকার্তা রওনা হওয়ার আগে আরও কয়েক দিন তাদের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। আমরা তাদের দুর্বলতাগুলো পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছি। তাদের এখন দুর্বলতা কাটিয়ে আগামী ১০-১২ দিনে প্রমাণ করতে হবে যে তারা দলের অংশ হতে সত্যি কতটা প্রস্তুত।”