১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রবাসী সমর্থকদের পাশে পেয়ে অনুপ্রাণিত শোমিত-হামজারা

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন ও ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেনের অনুপস্থিতিতে কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতে হবে, দলের বাকিদের এই বার্তা দিলেন শোমিত সোম।

প্রবাসী সমর্থকদের পাশে পেয়ে অনুপ্রাণিত শোমিত-হামজারা
সিঙ্গাপুরে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকদের পাশে পেয়ে উজ্জীবিত শোমিত-হামজারা। ছবি: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Mar 2026, 08:58 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:16 PM

ভিয়েতনামে প্রবাসী বাংলাদেশি ছিল কম, গ্যালারিতে হামজা-শোমিতদের পক্ষে শ্লোগান তাই সরব ছিল না। সিঙ্গাপুরের আবহ ভিন্নরকম। দলের অনুশীলন দেখতেই ভীড় করছেন দেশটিতে থাকা বাংলাদেশিরা। 

অনুমিতভাবে মাঠের লড়াইয়েও তারা মাতিয়ে রাখবেন গ্যালারি। গলা ফাটাবেন লাল-সবুজের জার্সির পক্ষে। শোমিত সোম বললেন, প্রবাসী সমর্থকদের পাশে পেয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ভালো খেলার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন তারাও।

এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে নিজেদের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে আগামী মঙ্গলবার স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। 

‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে বাছাই পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া সিঙ্গাপুর প্রথম লেগে ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতেছিল ২-১ গোলে। পাঁচ ম্যাচে একটি জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। ৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা হংকংকে পেছনে ফেলে টেবিলে দ্বিতীয় হতে হলে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জিততে হবে হাভিয়ের কাবরেরার দলকে।

কাজটা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয় মোটেও। তবে বাংলাদেশের দুর্ভাবনা বাড়িয়েছে কার্ডের খাঁড়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন এবং ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেনের অনুপস্থিতি। বাফুফের মাধ্যমে পাঠানো ভিডিও বার্তায় শোমিত সোম এ নিয়ে দিলেন স্পষ্ট বার্তা-প্রয়োজনের সময় কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতে হবে।

“যদি সত্যি বলতে হয়, ওরকম চাপ আমরা চিন্তা করছি না। আমরা কেবল খেলি। অবশ্যই আমরা মিস করছি (মোহাম্মদ) হৃদয়কে, কাজমকে (শাহ কিরমানি) আর যে আসে নাই রাকিব আর তপুকে। কিন্তু আবারও বলছি, এমন সময়ও আসতে পারে, হামজা ও আমি খেলতে পারছি না, যদি আমরা ব্যথা পাই। সবসময় (এমন পরিস্থিতিতে) কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতে হবে, অবদান রাখতে হবে”

“সিঙ্গাপুরে যে বাংলাদেশিরা আছে, আমাদেরকে সমর্থন করতে অনুশীলনে আসছে, এটা খুব ভালো লাগছে। আমি মনে করি, এটা সবার মানসিক শক্তি, প্রাণশক্তি আরেকটু বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের উপস্থিতি আমাদের সিঙ্গাপুর ম্যাচে জয়ের জন্য একটু অনুপ্রাণিত করছে।”

ভিয়েতনামের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে যাওয়া প্রীতি ম্যাচ থেকেও অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা, ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা এরই মধ্যে বলেছেন কোচ হাভিয়ের কাবরেরা, ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন। এবার একই সুর শোনা গেল সহকারী কোচ হাসান আল মামুনের কণ্ঠে। প্রবাসী সমর্থকদের পাশে পাওয়ার উচ্ছ্বাসও ঝরল তার কণ্ঠে।

“যখন দেশের বাইরে আসবেন এবং (সেখানে প্রবাসী সমর্থকদের উপস্থিতিতে যখন) মনে হবে যে, দেশেই আছেন, দেশের এত মানুষ আপনার নাম ধরে চিৎকার করছে… এটা অবশ্যই কাজে দেবে। যেটা আমাদের হয়েছিল সবশেষ হংকংয়ের মাঠে খেলার সময়।” 

“আসলে দিন শেষে ফুটবল একটা খেলা, সেখানে যে কোনো দল জিতবে। কিন্তু সমর্থকদের পাশে পেয়ে আমরা উজ্জীবিত দল হিসেবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলতে নামব, যেটা ভিয়েতনামে কম দেখা গিয়েছিল, কারণ সেখানে বাঙালির সংখ্যা খুবই কম ছিল। আশা করি, এখানে একটা টনিক হিসেবে কাজ করবে।”