মৌসুম শেষেই লিভারপুল ছাড়ছেন ‘সত্যিকারের কিংবদন্তি’ রবার্টসন
৯ বছরে লিভারপুলে ৯টি ট্রফি জিতে নতুন ঠিকানায় যাচ্ছেন ৩২ বছর বয়সী স্কটিশ ডিফেন্ডার।
প্রথম একাদশে এখন আর নিয়মিত জায়গা মেলে না। মৌসুম শেষে চুক্তির মেয়াদও শেষ। সব মিলিয়ে শেষের ডাক শুনতে পাচ্ছিলেন অ্যান্ডি রবার্টসন। সেই ডাকেই তিনি সাড়া দিলেন। এই মৌসুম শেষেই লিভারপুল ছাড়বেন স্কটিশ এই ডিফেন্ডার। ক্লাবের বিদায়ী বিবৃতিতে তাকে বলা হয়েছে ‘সত্যিকারের কিংবদন্তি।’
জানুয়ারির দলবদলে তিনি টটেনহ্যাম হটস্পারে পাড়ি জমাতে পারেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। তবে শেষ পর্যন্ত লিভারপুলের রক্ষণভাগে চোটসমস্যার কারণে তিনি অ্যানফিল্ডেই রয়ে যান। এবার প্রিয় আঙিনা ছেড়ে যাচ্ছেন তিনি, বৃহস্পতিবার জানানো হয় ক্লাবের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে।
“অ্যানফিল্ডে দারুণ সফল ৯টি মৌসুম কাটানোর পর স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক এই গ্রীষ্মে তার চুক্তির মেয়াদ শেষে ক্লাব ছেড়ে যাবেন। বিদায় নেবেন তিনি সত্যিকারের কিংবদন্তি হিসেবেই
“এখনও পর্যন্ত ৩৭৩ ম্যাচ খেলেছেন তিনি এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোর ক্লাবের সাফল্যে মৌলিক ভূমিকা পালন করে তিনি বিদায় নিচ্ছেন লিভারপুলের একজন সত্যিকারের কিংবদন্তি হিসেবেই।”
২০১৭ সালে হাল সিটি থেকে রবার্টসনকে ৮০ লাখ পাউন্ডে দলে আনে লিভারপুল। নতুন ক্লাবে অভিষেক ম্যাচেই ম্যান অব দা ম্যাচ হন তিনি। তার পরও শুরুর দিকে ইয়ুর্গেন ক্লপের দলে জায়গ পেতে লড়তে হয় তাকে। তবে একটা সময়ে তিনি হয়ে ওঠেন দলের প্রধান লেফট-ব্যাক। এই ক্লাবে ৯ বছরের পথচলায় তিনি জিতেন দুটি প্রিমিয়ার লিগ, দুটি লিগ কাপ, একটি করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ, উয়েফা সুপার কাপ, এফএ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড।
এই মৌসুমে তার পারফরম্যান্সে ভাটার টান ছিল। একাদশে অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি বোর্নমাউথ থেকে মিলোস কেরকেসকে দলে আনার পর। চলতি মৌসুমে মোটে ১৫টি ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন ৩২ বছর বয়সী ডিফেন্ডার।
ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দিলেও সিদ্ধান্তটি কত কঠিন ছিল, ফুটে উঠল রবার্টসনের প্রতিক্রিয়ায়।
“লিভারপুলের মতো একটি ক্লাব ছেড়ে যাওয়া কখনোই সহজ নয়। গত ৯ বছর ধরে এটি আমার এবং আমার পরিবারের জীবনের একটি বিশাল অংশ হয়ে ছিল। কিন্তু আমি ব্যাপারটি যেভাবে দেখি, ফুটবলারদের একসময় যেতে হয়, লোকে চলে যায়, থেকে যায় কেবল ক্লাব ও সমর্থকেরা।”
"এখানে আমার ৯টি বছর অসাধারণ কেটেছে এবং আমার মনে হয়, তা বেশ ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে গত এক বছর ধরে আমার ক্লাব ছাড়ার সুযোগ এসেছিল, কিন্তু তা গ্রহণ করিনি, কারণ এই ক্লাবটি ছেড়ে যাওয়া খুবই কঠিন। পৃথিবীর কোনো কিছুর বিনিময়েও তা বদলাতে চাই না।”
ছেড়ে যেতে না চাইলেও সময়ের বাস্তবতাই তিনি মেনে নিয়েছেন।
“আমি জানি ফুটবল এগিয়ে যায়, দলও এগিয়ে যায় এবং এখন আমার এগিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ যেখানেই হোক না কেন এবং আমার ক্যারিয়ার আমাকে যেখানেই নিয়ে যাক, সেখানেই যেতে হবে আমাকে।”
“এই ক্লাবের অসাধারণ স্মৃতিগুলো সবসময় লালন করব। ৯ বছর ধরে ক্লাবের জন্য আমার হৃদয় ও আত্মা ঢেলে দিয়েছি এবং তেমন কোনো আক্ষেপ নেই আমার। একজন মানুষ এবং ব্যক্তি হিসেবে আরও পরিণত হয়েছি এখানে। এই ক্লাব আমার কাছে চিরকাল সবকিছুর চেয়ে প্রিয় থাকবে, এখানকার সমর্থকেরাও আমার কাছে সবকিছুর চেয়ে প্রিয় থাকবে। এই যাত্রাটা ছিল অসাধারণ।”
ক্লাবের বিবৃতিতে তাকে কিংবদন্তি বলা হলেও তিনি নিজেকে তা মনে করেন না। তবে এই ক্লাবে প্রত্যাশিত সাফল্যে নিজেকে রাঙানোর তৃপ্তি তার আছে।
“আমি লিভারপুলের কিংবদন্তি কি না, তা অন্যরাই বলুক…আমার মনে হয় আপনারা আমাকে যথেষ্ট ভালো করেই চেনেন যে, আমি এটা কখনোই মেনে নেব না। কিন্তু ফুটবল ক্লাবে আসার প্রথম মিনিট থেকেই আমি সফল হতে চেয়েছি, ট্রফি ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করেছি এবং ক্লাবকে সেই জায়গায় ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে চেয়েছিম, যেখানে ক্লাবের থাকা উচিত বলে আমার বিশ্বাস ছিল।”
“আমি খুব গর্বিত যে আমি এমন চমৎকার দলগুলোর অংশ হতে পেরেছি, যারা এটা করতে পেরেছে। এই ক্লাব আমার কাছে সবকিছু।”
