মায়ের শখ পূরণে হাতির পিঠে বরযাত্রা
বর্ণাঢ্য এই বরযাত্রা দেখতে রাস্তায় শত শত উৎসুক মানুষের ঢল নামে।
হাতির পিঠে চড়ে রাজকীয় বরযাত্রা। অতীতের রাজা-জমিদারের রাজপুত্রদের মতো ছেলের এমন রাজকীয় বিয়ের আয়োজনের শখ ছিল মায়ের। আর সেই শখ পূরণে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়িতে যান গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার শাকিল মিয়া।
শুক্রবার বিকালে উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চকনদী গ্রামে এমন ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন করা হয়। বর্ণাঢ্য এই বরযাত্রা দেখতে রাস্তায় শত শত উৎসুক মানুষের ঢল নামে।
২৭ বছর বয়সি বর শাকিল মিয়া চকনদী গ্রামের সায়েদ আলী ও মোছা. পোশাকী বেগম দম্পতির ছেলে। ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন তিনি।
কনে সুমাইয়া আকতার বিথী (১৯) পার্শ্ববর্তী ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়া ও সুলতানা বেগমের মেয়ে।
এদিন বিকাল ৪টায় বাড়ি থেকে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন শাকিল। প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কনের বাড়ি পৌঁছান। তার সঙ্গে মাইক্রোবাসে ছিল বরযাত্রী।
সেখানে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুমাইয়া আকতারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। যৌতুকবিহীন এই বিয়ের দেন মোহরানা করা হয়েছে আড়াই লাখ টাকা; যা বিয়ের আসরেই নববধূকে বুঝিয়ে দেন বর। পরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতেই নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন শাকিল।
শাকিল মিয়া বলেন, বিয়ে জীবনের একটি বিশেষ দিন; যা বারবার আসে না। এ ছাড়া মায়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা তাকে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করাবেন। তার ইচ্ছা এবং বিশেষ এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০ হাজার টাকা দিয়ে হাতিটি ভাড়া করে আনা হয়। মায়ের শখ পূরণ করতে পেরে তিনিও সন্তুষ্ট।
নবদম্পতির জন্য দোয়া চেয়ে বরের মা মোছা. পোশাকী বেগম বলেন, “সন্তানকে ঘিরে একজন মায়ের অনেক স্বপ্ন থাকে। কিন্তু সব স্বপ্ন পূরণ হয় না। তবে আমার এই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় খুবই আনন্দিত।”
ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন বলেন, মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতেই হাতির পিঠে এই বিয়ের আয়োজন; যা এই এলাকায় প্রথম। শত শত মানুষ বর ও হাতি দেখতে বিয়ে বাড়িতে ভিড় জমান।
