আলট্রাসনোগ্রামে যমজ, সিজারের পর এক শিশু পাওয়ায় অপরটির খোঁজে থানায় অভিযোগ
তাদের জানানো হয়েছিল, গর্ভে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার এক দম্পতিকে দুইবারের আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় গর্ভে যমজ সন্তান থাকার কথা জানানো হয়েছিল।
কিন্তু সিজারের পর একটি শিশু পাওয়ায় নওগাঁর একটি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে নওগাঁ শহরের ‘বলাকা’ নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
শিশুটির বাবা শান্ত ইসলামের অভিযোগ, তার স্ত্রী শান্তনা আক্তারের দুটি আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় যমজ সন্তান থাকার কথা বলা হয়েছিল। রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকও তাদের একই কথা জানান। কিন্তু সিজারের পর একটি কন্যাশিশু দেওয়া হলেও অপর সন্তানটির বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দেয়নি।
শান্ত ইসলাম বলেন, ১২ অক্টোবর জয়পুরহাটের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রথম আলট্রাসনোগ্রাম করান তার স্ত্রী। পরে ২১ অক্টোবর নওগাঁর রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও আলট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। দুটি রিপোর্টে যমজ সন্তান থাকার কথা জানানো হয়।
চিকিৎসক মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে বৃহস্পতিবার স্ত্রীকে বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করান তিনি। ওই চিকিৎসকের অধীনেই সিজার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর একটি কন্যাশিশু দেখানো হলেও অপর সন্তানটির বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শান্তনা আক্তারও বলেন, অস্ত্রোপচারের আগে তাদের জানানো হয়েছিল, গর্ভে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। কিন্তু সিজারের পর তাকে একটি কন্যাশিশু দেখানো হয়।
তিনি বলেন, “আমি আমার দুই সন্তানকেই চাই। আমার আরেক সন্তান কোথায়, তা জানতে চাই।”
আলট্রাসনোগ্রাম করা চিকিৎসক দিনা বলেন, যন্ত্রে যা দেখেছেন, সেই অনুযায়ী রিপোর্ট দিয়েছেন। তবে যন্ত্রে ভুল হতে পারে। অনেক সময় একটি শিশুর মাথা দুটি দেখা যায় বলেও জানান তিনি।
রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শরিফুল বলেন, চিকিৎসক মাহফুজা খাতুনের নির্দেশনায় দিনা আলট্রাসনোগ্রাম করেছিলেন। রিপোর্ট ঠিকঠাকই ছিলো। তবে সিজারের পর একটি শিশু জন্মেছে বলে জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে চিকিৎসকরাই বলতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, মাহফুজা খাতুনই সিজার করেছেন। অস্ত্রোপচারের পর শিশুকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ভিডিও রয়েছে।
পুলিশও এসে সেই ভিডিও দেখেছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ ওঠা চিকিৎসক মাহফুজা খাতুনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
সদর থানার ওসি মিন্টু রহমান বলেন, অভিযোগকারী এজাহার লিখছেন। এজাহার জমা হলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
