মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন: গাজীপুরে ১২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৭
সরকারি সম্পদ নষ্ট ও টোল প্লাজায় নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে বাসন থানায় মামলার করে শিল্প পুলিশ।
গাজীপুরে বেতন বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় মামলা করেছে শিল্প পুলিশ।
সরকারি সম্পদ নষ্ট ও টোল প্লাজায় নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে করা এ মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পক্ষ থেকে বাসন থানায় মামলার এজাহার জমা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বেতন বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ করেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এ সময় কালিয়াকৈরের মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ মোড়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন তারা।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। এ সময় সড়কের পাশে ফেলে রাখা বর্জ্যে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। এতে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরে সকাল ১০টার দিকে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। এ সময় টোলপ্লাজায় নাশকতার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ থাকায় এলাকায় যানজট তৈরি হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। এরপর এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে আলোচনার একপর্যায়ে হঠাৎ ইটপাটকেল ছোড়া শুরু হয়। পরে নাওজোড় ও ভোগড়া বাইপাস এলাকার বাধা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ভোগড়া বাইপাস এলাকার টোলপ্লাজায় নাশকতার চেষ্টা ও সরকারি সম্পদ নষ্টের অভিযোগে বাসন থানায় মামলার এজাহার দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক রয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
