খানকা শরিফের রান্নাঘরে অজ্ঞাত যুবক, ‘খাবার না পেয়ে’ বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা
আঞ্জুমান কাদেরীয়া খানকা শরিফ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে বলে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি জানান।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে খাবার না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠের চেলা দিয়ে পিটিয়ে বাবুর্চিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় আহত হয়েছেন বাবুর্চির সহকারী।
শুক্রবার দুপুরে দৌলতদিয়া আঞ্জুমান কাদেরীয়া খানকা শরিফ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে বলে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জানান।
নিহত ফজের আলী সরদার (৭০) রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে।
আহত নারী সহকারী সোনা বান বিবি (৬৫) গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহির চর দৌলতদিয়ার সিদ্দিক কাজী পাড়ার মৃত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী।
এ ঘটনায় ৩৫ বছর বয়সি ওই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তবে তার নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, দুপুরে খানকা শরিফের রান্নাঘরে প্রবেশ করেন ওই যুবক। তিনি বাবুর্চির কাছে খাবার চান। তখন খাবার না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠের চেলা দিয়ে ফজের আলীর মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করেন ওই যুবক। বাবুর্চিকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন তার সহকারীও।
তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে হামলাকারীকে আটক করেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোনা বান বিবির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে, ওই যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন। বেশ কিছুদিন ধরে গোয়ালন্দ বাজার এলাকায় তাকে দেখা গেছে এবং বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চেয়ে খাবার খেতেও দেখা গেছে।”
