১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে মহা অষ্টমীর স্নানোৎসবে পূণ্যার্থীর ঢল

এবার মহা অষ্টমীর স্নানোৎসবে অন্তত দশ লাখ পূণ্যার্থীর আগমন ঘটেছে বলে জানান উদযাপন কমিটির সভাপতি।

নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে মহা অষ্টমীর স্নানোৎসবে পূণ্যার্থীর ঢল

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে মহা অষ্টমীর স্নানোৎসবে পুণ্যার্থীদের ঢল৷

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Mar 2023, 08:39 PM

Updated : 29 Mar 2023, 08:39 PM

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহা অষ্টমীর স্নানোৎসবে অংশ নিয়েছেন লাখো পূণ্যার্থী৷

বুধবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূণ্যতিথিতে পাপমোচনের আশায় ব্রহ্মপুত্রে নদে স্নান করতে দেখা যায়।   

মঙ্গলবার রাত ৯টা ১৮ মিনিটে অষ্টমী স্নানের তিথি শুরু হয়েছে৷ শেষ হবে বুধবার রাত ১০টা ৪৭ মিনিটে। এ সময়ের মধ্যে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে আগত পূণ্যার্থীরা ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করবেন বলে জানান স্নানোৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি সরোজ কুমার সাহা৷

নদীপথে ট্রলারে করে বিক্রমপুর থেকে স্বামী, সন্তানসহ লাঙ্গলবন্দে স্নান করতে এসেছেন প্রমিলা রানী শীল৷ তিনি বলেন, “আগেও অনেকবার এসেছি৷ অনেক তো পাপ করি৷ ভগবান যাতে সেই পাপ থেকে মুক্তি দেন, ভালো মতো খেয়ে-পড়ে বাঁচতে পারি সেই প্রার্থনাই করেছি৷ স্নানের পর মনে শান্তি লাগে৷”

পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে প্রথমবার পূণ্যস্নানে এসেছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার হেমানন্দ সরকার। তিনি বলেন, “দুইদিন আগেই বাইন্নাচং থেইকা আইছি৷ ঢাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে আছিলাম৷ সকালে লাঙ্গলবন্দ আইছি৷ রোগ-শোক, কত ঝামেলা আছে সেগুলো যাতে দূর হয়; তাই চাইছি ভগবানের কাছে৷”

স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে বসেছে মেলা৷ এ মেলায় হাতপাখা, ঢোল, রাঙতা, শিশুদের খেলনা, সন্দেশ, মিষ্টিসহ বাহারি খাবার বেচা-কেনা চলছে৷

ঘাটের পাশে ফুল, দুর্বা, আম্রপল্লব, কলা, তুলসি বিক্রির জন্য বসেছে অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী৷ স্নানের জন্য ফুল, দুর্বা, আম্রপল্লব লাগে বলে জানান সুকুমার চন্দ্র দাস নামে এক বিক্রেতা৷ তিনি বলেন, ১০-২০ টাকায় এসব বিক্রি করা হয়।

সরোজ কুমার সাহা বলেন, “প্রতিবছর এই স্নানোৎসবে দেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা থেকে আসা লাখো মানুষ অংশ নেন। এবার অন্তত দশ লাখ পূণ্যার্থীর আগমন ঘটেছে।

“এবার উৎসব ঘিরে ব্রহ্মপুত্র নদের ১৮টি স্নানঘাটের সংস্কার, কাপড় পরিবর্তনের কক্ষ ও অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ, পানীয় জল সরবরাহের সুব্যবস্থা ছিল৷ ঘাট এলাকায় নদের কচুরিপানা অপসারণেও উদ্যোগ নেওয়া হয়৷ মঙ্গলবার রাতে তিথি শুরু হওয়ার পর থেকে পূণ্যার্থীরা স্নানে অংশ নিতে শুরু করেন৷ বুধবার রাত পর্যন্ত থাকবে তিথি৷”

এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা হয়নি৷ শান্তিপূর্ণভাবেই এ উৎসব শেষ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন সরোজ সাহা৷

স্নানোৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক হাজার ২০০ সদস্য নিয়োজিত আছে বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল৷

তিনি বলেন, “তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে৷ পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও রয়েছে৷”

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, স্নানোৎসবের কারণে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার যানজট দেখা দেয়৷ যানজট নিরসনে কাজ চলছে।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, “ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এমনিতেই যানবাহনের চাপ থাকে৷ আজকে লাঙ্গলবন্দ স্নানকে ঘিরে পূণ্যার্থীদের আগমন প্রচুর৷ এ কারণে সড়কে যানবাহনের অত্যাধিক চাপ৷ যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের প্রায় ২০টি টিম মহাসড়কে কাজ করছে৷ পাশাপাশি জেলা পুলিশও যানজট নিরসনে কাজ করছে।”