২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতার ওপর হামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা

আব্দুস সবুরকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে শহরে মিছিল শেষে অসুস্থ হয়ে মারা যান জামায়াতের আরেক নেতা দুলাল হোসেন রোকনী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Sep 2026, 01:50 PM

Updated : 20 Sep 2026, 01:50 PM

সিরাজগেঞ্জে এক জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

আহত জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর সেখের স্ত্রী শোহর বানু বাদী হয়ে শনিবার রাতে সদর থানার এ মামলা করেন বলে জানিয়েছেন থানার ওসি রাকিবুল হাসান।

মামলায় সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকারসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরো ৫ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিরা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আহত আব্দুস সবুর সেখ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের জামায়াতের সাবেক আমির।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার দুপুরে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা টু রংপুর লংমার্চের গাড়িবহর যমুনা সেতু পার হয়ে সয়দাবাদ এলাকা অতিক্রম করে। তখন জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর সেখ নেতাকর্মীদের নিয়ে মহাসড়কের পাশে দাড়িয়ে তাদের স্বাগত জানান।

ওই সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জামায়াতের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রশাসনের বাধার মুখে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

এরপর স্থানীয় একটি মসজিদে জোহরের নামাজ শেষে বের হওয়ার পর আব্দুস সবুর সেখকে একা পেয়ে তার ওপর হামলা চালায় স্থানীয় বিএনপির চিহ্নিত নেতাকর্মীরা। তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আব্দুস সবুরকে কুপিয়ে ও মারধর করে গুরুতর আহত করে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

আহত আব্দুস সবুরকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হয়। এরপর তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আব্দুস সবুরের শরীরের ৩টি স্থানে জখম হয়েছে।

তবে এ প্রসঙ্গে সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, “লংমার্চের সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সাথে জামায়াত নেতাকর্মীদের তর্কবিতর্ক হয়। ওই সংক্রান্ত একটি ভিডিও জামায়াতের পক্ষ থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন তারা।

“এ কারণে স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী আব্দুস সবুরকে ধরে কিলঘুষি দিয়েছে। কাঠের চেলা দিয়ে আঘাত করার কারণে হয়তো তার শরীর থেকে রক্ত বের হয়েছে। কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ সঠিক নয়।”

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, রাতে মামলা হয়ছে। তবে আসামিদের কেউ এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

প্রতিবাদে মিছিল করার সময় আরেক জামায়াত নেতার মৃত্যু

এদিকে, জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার রাতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত নেতাকর্মীরা।

জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম বলেন, শহরের দরগারোডের জেলা জামায়াত কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়র প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়।

ওই মিছিল শেষে সদর উপজেলার গুনেরগাতি গ্রামের বাসিন্দা ও খোকসাবাড়ী ইউনিয়নের ৫ নং ওর্য়াড জামায়াতের সাবেক আমির দুলাল হোসেন রোকনী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তাকে দ্রুত শহরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান জেলা জামায়াতের নেতা শহিদুল।