১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লক্ষ্মীপুরে ঋণের কিস্তি চাইতে গিয়ে খুন, ৭ দিন পর মৃতদেহ উদ্ধার

দৈনিক আড়াইশ টাকা কিস্তি পরিশোধের শর্তে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিল জাবেদ। কয়েক কিস্তি বকেয়া রাখায় তা চাইতে গিয়েছিলেন ইউনুছ।

লক্ষ্মীপুরে ঋণের কিস্তি চাইতে গিয়ে খুন, ৭ দিন পর মৃতদেহ উদ্ধার

হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. জাবেদ হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Aug 2023, 01:34 PM

Updated : 31 Aug 2023, 01:34 PM

লক্ষ্মীপুরে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তির টাকা চাইতে গিয়ে এক মাল্টিপারপাস সমিতির পরিচালক হত্যার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার একজনের দেওয়া তথ্যে সাতদিন পর তার মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে । 

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মজুপুর গ্রামের কালু হাজী সড়কের পাশে একটি বাড়ি থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমস এন্ড অপস) হাসান মোস্তফা।

নিহত মো. ইউনুছ আলীর বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। তিনি পরিবার নিয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সমসেরাবাদ গ্রামের গণি হেডমাস্টার সড়কে বসবাস করতেন। তার বাবার নাম আব্দুল রশিদ মোল্লা। 

এ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. জাবেদ হোসেনকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। জাবেদ একই ওয়ার্ডের কালু হাজি সড়কের মিঝি বাড়ির সফিকুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় নির্মাণ শ্রমিক এবং চা দোকানি। 

ইউনুছের স্ত্রী সুলতানা জামান জানান, ২৪ আগস্ট বিকাল প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে তার স্বামী মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে যায়নি। পরদিন তিনি সদর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। 

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা বলেন, “নিখোঁজ ডায়েরির সূত্র ধরে আমরা ইউনুছ আলীর সন্ধান শুরু করি। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারি ওই রাতে ভিকটিম কালু হাজী সড়কের বাসিন্দা জাবেদের কাছে এসেছিলেন। এরপর থেকেই তার সন্ধান ছিল না। 

“আমরা জাবেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তখন জাবেদ হত্যার পর ইউনুছ আলীর মৃতদেহ মাটিতে পুঁতে রাখার বিষয়টি স্বীকার করে।” 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ইউনুছ আলী ‘গ্রামীণ বাংলা’ নামের একটি মাল্টিপারপাস সমিতি পরিচালনা করতেন। এর মাধ্যমে তিনি ক্ষুদ্র ঋণ দিতেন।

“জাবেদও তার কাছ থেকে দৈনিক আড়াইশ টাকা কিস্তি পরিশোধের শর্তে ২০ হাজার টাকা ঋণ নেয়। কিন্তু কয়েকটি কিস্তি আটকে দেয় সে। ঘটনার রাতে ইউনুছ কিস্তির টাকা নিতে জাবেদের বাড়ির সামনে থাকা তার চা দোকানে যান। 

“এ সময় তাদের দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জাবেদ লাঠি দিয়ে ইউনুছের মাথায় আঘাত করলে তার মৃত্যু হয়। পরে ইউনুছের মৃতদেহ দোকানের পেছনে মাটিতে পুঁতে রাখে জাবেদ।” 

এ ছাড়া ইউনুছের মোটরসাইকেল এবং মোবাইল ফোন পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয় জাবেদ। 

হাসান মোস্তফা আরও বলেন, জাবেদের দেওয়া তথ্য মতে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ইউনুছের মোটরসাইকেলটিও পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।