জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, ঝড়ে কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ‘ব্যাপক আকারে’। অনেক জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে, তার ছিঁড়ে গেছে।
Published : 25 Oct 2023, 12:37 AM
ঘূর্ণিঝড় হামুনের তাণ্ডবের মধ্যে কক্সবাজারে দেয়াল ও গাছ চাপা পড়ে দুই জনের মৃত্যুর খবর এসেছে।
জেলা প্রশাসক শাহীন ইমরান মঙ্গল রাত ১২টায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দুজনের মধ্যে পৌর এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছে দেয়াল চাপায়। আর মহেশখালী উপজেলায় গাছচাপায় একজনের মৃত্যুর খবর এসেছে।
কক্সবাজার পৌরসভা ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দেয়াল ধসে যার মৃত্যু হয়েছে, তার নাম আবদুল খালেক, বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর।
স্থানীয় কাউন্সিলর ওসমান সরওয়ার টিপু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাত ১০টার দিকে দেয়াল ধসে পড়েছিল। তাতে খালেক মারা যান। আমার ওয়ার্ডে প্রচুর গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি বেঁকে গেছে, তার ছিঁড়ে গেছে। রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে গাছ পড়ে। কিছু বাড়িঘরও ক্ষতি হয়েছে।”
মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের মুন্সির ডেইল গ্রামে মারা গেছেন হারাধন নামের এক ব্যক্তি। তিনি গাছ চাপা পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শাহীন ইমরান।
চকরিয়া উপজেলার বদরখালীতে আসকর আলী নামের আরেকজন গাছচাপায় মারা গেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এলেও বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি জেলা প্রশাসক।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরাও শুনেছি, তবে এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি।”
একই কথা বলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান।
রাত সোয়া ১২টায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “কক্সবাজারে দুইজন মারা গেছে, আমরা এটা নিশ্চিত হয়েছি। এদের মধ্যে একজন সদরে আরেকজন মহেশখালীতে। স্থানীয় প্রশাসন তাদের নাম-পরিচয়ও পেয়েছে। আরেকজন মারা যাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে আমরা নিশ্চিত না হয়ে বলতে পারছি না।”
ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতির বাতাসের শক্তি নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় হামুন। পরের কয়েক ঘণ্টায় মূলত কক্সবাজারের ওপর এ ঝড়ের তাণ্ডব চলে। রাত ১০টার পর ঝড়ের শক্তি অনেকটা কমে আসে।
জেলা প্রশাসক শাহীন ইমরান বলেন, ঝড়ে কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ‘ব্যাপক আকারে’। অনেক জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে, তার ছিঁড়ে গেছে।
“কক্সবাজার শহরে কোথাও বিদ্যুৎ নেই, যেহেতু প্রচুর বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গিয়েছে কাজেই সেগুলো পুরো চেক না করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।”
কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও কক্সবাজার পৌরসভায় কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেলেও সেন্টিমার্টিন দ্বীপে তেমন কোনো ক্ষতির তথ্য আসেনি বলে জানান জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, গাছ পড়ে চকরিয়ার দিকে ঢাকা-কক্সবাজার সড়ক কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেটা চালু করা হয়েছে। রাস্তার প্রতিবন্ধকতাগুলো অপসারণ করার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, “আমাদের ৫৭৬টি শেল্টার আছে। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ৯৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৪০ হাজারের মত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে যারা বাস করছে তাদের সরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।”