গাজীপুরে জামাই মেলায় মাছ কেনার প্রতিযোগিতা

আড়াইশ বছরের পুরনো এ মেলা পৌষের শেষ দিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হয়ে থাকে বলে জানান আয়োজকরা।

গাজীপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Jan 2024, 05:34 PM
Updated : 15 Jan 2024, 05:34 PM

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় হয়ে গেল জামাই মেলা। পৌষের শেষ দিনে এই মেলা হয়ে ওঠে মাছের মেলায়। এতে চলে জামাইদের মাছ কেনার প্রতিযোগিতা।

সোমবার বিনিরাইল (কাপাইস) গ্রামে জামাইদের জন্য এ মাছের মেলাটি মিলন মেলায় রূপ নেয়। মেলায় ওঠা ৫৫ কেজির ‘পাখি মাছ’ লক্ষাধিক টাকা দাম হাঁকিয়েছেন বিক্রেতা।

মেলা উপলক্ষে তিন দিন আগে থেকে মাঠে জমতে থাকে নানা পণ্যের পসরা। মাছ বিক্রি ছাড়াও সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আয়োজন করা হয় নানা রকম আনন্দ-উৎসবের।

দিনটি উপভোগ করতে প্রতি বছর কালিগঞ্জ উপজেলাবাসীসহ বিভিন্ন জেলার লোকজন অপেক্ষায় থাকেন। উপজেলার বিনিরাইল, কাপাইস, জাংগালীয়া, বক্তারপুর, মোক্তারপুর, জামালপুরের আশপাশের গ্রামসহ যারা এসব এলাকায় বিয়ে করেছেন, সেইসব জামাইরা মেলার মূল ক্রেতা ও দর্শনার্থী।

মেলাকে ঘিরে এলাকার জামাইদের মধ্যে চলে নীরব প্রতিযোগিতা। কোন জামাই সবচেয়ে বেশি দামে বড় মাছটি কিনে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যেতে পারেন সেটাই হচ্ছে এ মেলার সৌন্দর্য।

সকালে উপজেলার জামালপুর, বক্তারপুর ও জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের মধ্যে বিনিরাইল গ্রামের মাছের মেলায় গিয়ে এ দৃশ্য দেখে গেছে।

মেলায় এ উপজেলার বাসিন্দা ছাড়াও গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ থেকে অনেক মানুষ আসেন।

এবারের মেলায় প্রায় ৯ শতাধিক ব্যবসায়ী বাহারি মাছসহ আসবাবপত্র, খেলনা, মিষ্টিসহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন। এ মেলায় সমুদ্র ও নদীর বড় বড় চিতল, বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, কৈ কোরাল, কালীবাউশ, পাবদা, গুলসা, গলদা চিংড়ি, বাইম, কাইকা, রূপচাঁদা মাছের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে নানা রকমের দেশি মাছ।

কক্সবাজার থেকে মেলায় আসা মাছ ব্যবসায়ী শেখ সোহাগ ইসলাম ৫৫ কেজি ওজনের একটি পাখি মাছ এক লাখ ২৭ হাজার টাকা দাম হাঁকান।

মাছটি ৭৫ হাজার টাকা দাম বলেন গোপালগঞ্জের বাসিন্দা স্থানীয় জামাই কামাল হোসেন। তবে মাছটি ছাড়ছেন না ব্যবসায়ী।

কামাল বলেন, “এবারই প্রথম এ মেলায় এসেছি। পাখি মাছটি আমার খুব পছন্দ তাই ৭৫ হাজার টাকা বলেছি।”

টাঙ্গাইলের বাসিন্দা স্থানীয় জামাই আনোয়ার হোসেন যোগ দেন এ মেলায়। ৩০ কেজির একটি বোয়াল ২০ হাজার টাকা দাম বলেন তিনি। কিন্তু বিক্রেতা স্বজল মাছটির একদাম ৪০ হাজার টাকা বলে দেন। এভাবেই মেলায় জামাইরা মাছের দাম-দর করেন।

মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি কিশোর আকন্দ বলেন, মেলাটি এখন এই অঞ্চলের উৎসবে পরিণত হয়েছে। মেলাটি প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো। বিভিন্ন আকারের মাছ কিনতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে এ মেলায়।

মাছ ছাড়াও ফার্নিচার, মিষ্টান্ন, লোকজ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে; তবে মেলাটি মাছের জন্যেই বেশি পরিচিত বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মেলাটি প্রথম অনুষ্ঠিত হতো খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে। অগ্রহায়ণের ধান কাটা শেষে পৌষ সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ মেলাটি একটি সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। এ মেলা গাজীপুর জেলার সবচেয়ে বড় মাছের মেলা হিসেবে স্বীকৃত।

শুরুতে এ মেলা শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য হলেও বর্তমানে এটি সব ধর্মের মানুষের কাছে ঐতিহ্যের উৎসবে পরিণত হয়েছে বলে জানায় আয়োজক কমিটি।