যমুনা সার কারখানায় পুনর্নিয়োগের দাবি শ্রমিকদের

চুক্তির মেয়াদ শেষে এসব শ্রমিককে ১ সেপ্টেম্বর থেকে কারখানায় প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা দেয় কর্তৃপক্ষ।

জামালপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Sept 2022, 10:51 AM
Updated : 10 Sept 2022, 10:51 AM

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা সার কারখানায় ৪৮৬ জন শ্রমিক পুনর্নিয়োগের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন।

শনিবার সকালে সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে কারখানা এলাকার প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল শেষে শ্রমিকরা প্রধান ফটকে অবস্থান ও সমাবেশ করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

শ্রমিকরা জানান, বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প সংস্থার (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন দেশের বৃহত্তম দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী কেপিআই-১ মানের যমুনা সার কারখানায় ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দৈনিক হাজিরাভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ করে।

স্থায়ী শ্রমিকদের পাশাপাশি দরপত্র আহ্বান করে নির্বাচিত ঠিকাদারের মাধ্যমে দুই বছরের জন্য এসব শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সাখাওয়াত আলম মুকুলের মালিকানাধীন মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে ৪৮৬ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। তাদের মেয়াদকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের কারখানায় প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা দেয় কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে নতুন শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ রাখতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আদালতে মামলা করে।

শ্রমিকরা দাবি করেন, মামলায় শ্রমিক নিয়োগে বাধা না থাকলেও ঠিকাদারের যোগসাজশে কারখানা কর্তৃপক্ষ দরপত্র আহ্বান করছে না।

শনিবার সমাবেশে শ্রমিকদের পক্ষে বক্তব্য দেন পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম মানিক। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি যৌক্তিক। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক। আরও বক্তৃতা করেন, পোগলদিঘা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল হক, সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন।

সমাবেশ থেকে অস্থায়ী ভিত্তিতে ঠিকাদার নিয়োগ এবং শ্রমিকদের পুনরায় কাজের সুযোগ দিতে তারা দুই দিনের আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান।

এ ব্যাপারে কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, চুক্তিভিত্তিক ৪৮৬ জন শ্রমিকের মধ্যে ১৯৩ জনের নিয়োগ বিধি মোতাবেক আগেই বাতিল হয়েছে। বাকি ২৯৩ জনের মেয়াদকাল ৩১ আগস্ট শেষ হয়।

“নতুন ঠিকাদার নিযুক্ত করতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিলো, কিন্তু কর্মরত ঠিকাদারের মামলার কারণে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় নতুন শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ আছে।”

সরিষাবাড়ী থানার ওসি মুহাম্মদ মহব্বত কবীর জানান, শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকরা কর্মসূচি পালন করে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক