কুষ্টিয়ায় ‘মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে’ বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত
ভারত থেকে আসা মাদক এবং পাতার বিড়ি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে বলে ভাষ্য ইউপি চেয়ারম্যানের।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ‘মাদক ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের’ জেরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় উভয়পক্ষের আরও আটজন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি স্থানীয়দের।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন চড়ুইকুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান।
নিহত টেঙ্গুর আলী মণ্ডল (৬০) ওই এলাকার প্রয়াত দৈয়ব মণ্ডলের ছেলে। তার বড় ভাই রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
আহতরা হলেন- ওই এলাকার সুমন মিয়া (৫০), হাদু মণ্ডল (৭০), রাশিদুল (৩৫), ফটিক (৫৫), বজলু (৫৫), আজাদ মণ্ডল (৬০) ও রাজু মণ্ডল (৩০)। তারা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রেসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আজাহার মেম্বারের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পটলের লোকজনের বিরোধ চলে আসছিল।
সোমবার রাতে ভারত থেকে আসা মাদক চালানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে আবার বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে দুদিন ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে এদিন বিকালে দুই পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে টেঙ্গুর মণ্ডলের পেটে সড়কি বিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নদীপথে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, “দুই থেকে তিন দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল; যা বৃহস্পতিবার সংঘর্ষে রূপ নেয়। ভারত থেকে আসা মাদক এবং পাতার বিড়ি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ শুরু বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
ওসি খালেদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। তবে এ ঘটনায় এখনও কেউ থানায় মামলা করেননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
