দ্রব্যমূল্য নিয়ে কারসাজি করলে ‘গণধোলাইয়ের’ হুঁশিয়ারি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর
মন্ত্রী জানান, রমজান শুরু হওয়ার একদিন আগে থেকেই ২৫টি জায়গায় ন্যায্যমূল্যে বিভিন্ন দ্রব্য বিক্রি করা হবে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ে কোনো কারসাজি করলে ‘গণধোলাই’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমান।
তিনি বলেছেন, “অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারের দ্রব্যমূল্য কোনো কারসাজি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি তাদের গণধোলাই দেওয়া হবে।”
সোমবার বিকালে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় মধুমতি নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ ও নদীর নাব্যতা ঠিক রাখতে ড্রেজিংয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “কয়েকদিন পরেই রমজান শুরু হচ্ছে। রোজার সময় সাধারণ মানুষ যাতে সঠিক দামে দ্রব্য কিনতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “রমজান বরকতময় মাস, রহমতের মাস সুতরাং ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও প্রতিটি মানুষের উচিত হবে সকলে স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত বন্দেগি করতে পারে সেজন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যার যার জায়গা থেকে ভূমিকা রাখবে।”
দ্রব্যমূল্য ঠিক রাখতে সরকার এর মধ্যেই কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “রমজান শুরু হওয়ার একদিন আগে থেকেই সেই কাজটি শুরু করব। ২৫টি জায়গায় ন্যায্যমূল্যে বিভিন্ন দ্রব্য বিক্রি করা হবে।
“সেখানে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছি- গরুর মাংস ৬০০ টাকা, খাসির মাংস ৯০০ টাকা এবং দুধের কেজি ৮০ টাকা।”
এর আগে মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নে মধুমতি নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ ও ড্রেজিং প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন মন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুর রহমান বলেন, এ কাজে ব্যয় হবে দেড়শ কোটি টাকা। স্বাধীনতার পরে এই নদীতে এটাই প্রথম স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ ।
ফরিদপুর-১ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, “মধুমতি নদীর পাড়ে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ জন্মগ্রহণ করেছেন, সেই এলাকা দীর্ঘদিন যাবত নদী ভাঙনের কবলে ছিল।
“বঙ্গবন্ধু কন্যার ঐকান্তিক ইচ্ছায় আজ মধুমতি নদীর ভাঙনের সেই জায়গাটাকে রক্ষা করতে বাধ নির্মাণ শুরু হচ্ছে। শুধু বাঁধ নয়, নদীর নাব্যতা ঠিক রাখতে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এটা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল।”
