ঈদ ঘিরে অনবরত চলছে দর্জিবাড়ির সেলাই মেশিন

“সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে; আমরা কিন্তু এখনো পোশাকের মজুরি বাড়াইনি।”

বেনাপোল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 April 2024, 11:15 AM
Updated : 3 April 2024, 11:15 AM

একপাশে কাপড় কাটা চলছে। আরেকপাশে সেলাই মেশিনে উঠছে হরেক রঙের কাপড়; তাতে ফোঁড় দিচ্ছেন দর্জিরা। এভাবেই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন নকশার পোশাক।

এ চিত্র যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল, নাভারন ও বাগআচড়া বাজারে বিভিন্ন দর্জির দোকানে। শবে বরাতের পর থেকেই ব্যস্ততা বাড়লেও ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় এখন দম ফেলার একেবারেই ফুরসত নেই কারিগরদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কেউ আনস্টিচ জামা কিনে, কেউ আবার গজ কাপড় নিয়ে হাজির হচ্ছেন টেইলার্সে। ঈদের আগেই চাই নতুন পোশাক; তাই দর্জিকে বুঝিয়ে বানিয়ে নিতে হবে পছন্দের থ্রিপিস, টুপিস, গাউন, লেহেঙ্গা। দর কষাকষির পাশাপাশি পছন্দের পোশাকটি সময়মত হাতে পেতে কাররিগরকে বেশ তাড়াও দিতে দেখা গেছে।

নতুন পোশাক বানাতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তৈরির চাইতে দর্জিকে দিয়ে নিজেদের পছন্দমত জুতসই পোশাকেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন তারা।

তাদেরই একজন আবু নাইম মোহাম্মদ প্রিন্স। নাভারন রোজ টেইলার্সে কথা হয় তার সঙ্গে। নিজের পছন্দের পোশাক বানাতে দর্জির শরণাপন্ন হয়েছেন বলে জানালেন।

তৈরি পোশাক নয় কেন নয়? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “ঈদে নিজেকে বাকিদের চাইতে আলাদা দেখতে চাই। আলাদা ডিজাইনের পোশাক পরার আনন্দটাই আলাদা।”

নাভারন নিউমার্কেটের আলমিন টেইলার্সে ভিন্ন ডিজাইনের পোশাক তৈরি করতে এসেছেন কলেজছাত্রী আফিয়া জান্নাত ও অনামিকা আফরিন।

তারা বলেন, বাজারে যা কিনতে পাওয়া যায়; তা সবই প্রায় একই নকশার একই ধাঁচের। এ কারণে টাকা একটু বেশি খরচ হলেও জামায় ভিন্নতা আনতে দর্জির কাছে দিয়েছেন। দর্জির কাছে অর্ডার দিয়ে জামা তৈরি করলে নকশাটা অন্যদের থেকে আলাদা হয়।

এদিকে ক্রেতার ভিড় সামাল দিতে আগেভাগেই ঈদের কাজ শুরু করেছেন দর্জিবাড়ির কারিগররা। এখন নিচ্ছেন শেষের দিকের অর্ডার। পোশাক তৈরি করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ততা চলছে।তবে এবারে থ্রিপিস আর পাঞ্জাবির চাহিদাই বেশি বলে জানা গেছে।

শেষ মুহূর্তে কাপড়ের মাপজোক নিতে, কাপড় কাটতে ও সেলাই ও এমব্রয়ডারিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জিবাড়ির কারিগরেরা। তবে আগের চিরচেনা হৈ-হুল্লোড় ও তোড়জোড় না থাকলেও শেষ সময়ে কাজ গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে তাদের।

দর্জি আব্দুস রাজ্জাক বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে আমাদের ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে রেডিমেড জামা-কাপড়ের ভিড়ে দর্জিবাড়ি হারিয়েছে আগের জৌলুস। তবে এবার অন্য বারের চাইতে কাজের চাপ অনেক বেশি।”

বর্তমান বাজারে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়লেও সে তুলনায় পোশাকের মজুরি বাড়েনি বলে জানালেন বেনাপোল বাজার পোশাক তৈরি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ খোকন।

তিনি বলছেন, “সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে; আমরা কিন্তু এখনও পোশাকের মজুরি বাড়াইনি।”

কোন পোশাক তৈরিতে কী ধরনের মজুরি লাগে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়েদের সুতির সালোয়ার কামিজ ২৫০ টাকা ও সিনথেটিক সালোয়ার কামিজ ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকা। শুধু সালোয়ার ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। চুড়িদার ২০০ থেকে ২৫০, ধুতি সালোয়ার ৩০০, প্যান্ট কাটিং পায়জামা ২৫০ থেকে ৩০০, প্লেন ব্লাউজ ১৫০, ডিজাইন ব্লাউজ ৩০০ থেকে ৪০০, পেটিকোট ১০০, বিভিন্ন ধরনের বোরকা ৩৫০ থেকে ৭৫০, প্লেন ফ্রক সুতি ৩২০, প্লেন গাউন ফ্রক সুতি ৪৫০, প্লেন গাউন ফ্রক দুপার্ট ৭৫০, মৌচাক ফ্রক ৮০০ থেকে এক হাজার ৬০০, আনারকলি ৬৫০ থেকে এক হাজার লেহেঙ্গা ৬০০ থেকে এক হাজার ৩৫০, শাড়ির পাড় ও শাড়ির ফলস্ ২০০, পুরুষদের পাঞ্জাবি ৩৫০ থেকে ৫০০ সাধারণ জুব্বা ৫৫০, সৌদি জুব্বা ৭০০, কাবলি সেট এক হাজার ১০০, শার্ট ৩০০, ডিজাইন শার্ট ৪০০, ফতুয়া ৩০০, প্যান্ট ৪০০, জিন্স প্যান্ট ৫০০, সাফারি সেট ২ হাজার টাকা।

এজাড়া বিভিন্ন ধরনের কোটের মজুরি ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বেনাপোল বাজারের হিরা মার্কেটের মনির ক্লথ অ্যান্ড টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী শাহাবুদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, “শবে বরাতের পর থেকেই অর্ডার আসছে। অন্যবারের তুলনায় এবারে একটু বেশি। সামনের রোজাগুলোতে আরও বেশি আশা করছি ।”