সৌদির পাঠানো কোরবানির মাংসের ভাগ সাংবাদিক-রাজনীতিকদের

চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান বলেছেন, এখানে দীর্র্ঘদিন ধরে এই চর্চা চলে আসছে।

আহসান হাবিব নীলুকুড়িগ্রাম প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 March 2023, 04:18 PM
Updated : 15 March 2023, 04:18 PM

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় দুঃস্থ, দরিদ্র্য ও এতিমদের জন্য সৌদি আরব সরকারের পাঠানো কোরবানির মাংসে সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভাগ বসানোর অভিযোগ উঠেছে ।

বুধবার এ খবর জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। 

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার তথ্য মতে, জেলার নয় উপজেলার জন্য সৌদি সরকারের দেওয়া ১৭৭ কার্টন কোরবানির পশুর মাংস বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চিলমারী উপজেলায় ১২ কার্টন মাংস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব মাংস জেলার বিভিন্ন এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিংসহ দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করার জন্য বলা হয়েছে। 

উপজেলার একাধিক সাংবাদিক জানান, কয়েক বছর পর সৌদি সরকারের দেওয়া কোরবানির মাংস চিলমারীতে পৌঁছালেও তা দরিদ্র ও বঞ্চিতদের মধ্যে বিতরণ না করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা ভাগ বসিয়েছেন।

বরাদ্দের ১২ কার্টন মাংসের মধ্যে ছয় কার্টন ছয় ইউনিয়ন পরিষদে দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয় কার্টন জনপ্রতিনিধি, উপজেলার তিন প্রেসক্লাবের সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এসব মাংস বরাদ্দের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যহত হয়েছে। 

চিলমারীর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম লিচু বলেন, “রাজনৈতিক কাজে ঢাকায় ছিলাম। এ বিষয়ে কোনো কিছু আমি জানি না।”

দুঃস্থ, দরিদ্র মানুষসহ সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে মাংস বিতরণের বিষয়ে চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামান শাহীন বলেন, “জন প্রতিনিধিদেরকে তাদের এলাকার দুঃস্থদের মাঝে বিতরণের উদ্দেশ্যে মাংসের কার্টন দেওয়া হয়েছে।

“এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের স্টাফ, সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝেও মাংস বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

অন্য উপজেলায় এতিম ও দুঃস্থদের মাঝে মাংস বিতরণ করা হলেও চিলমারীতে সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য কেন দেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান আরও বলেন, “এখানে (চিলমারীতে) দীর্র্ঘদিন ধরে এই চর্চা চলে আসছে। তাই আমি নতুন করে কিছু বলিনি।”

চিলমারী প্রেসক্লাবের সদস্য মমিনুল ইসলাম বাবু বলেন, “এটা খুবই দুঃখজনক। এই মাংসে সম্পূর্ণ অধিকার হলো দুস্থ, অভাবগ্রস্ত ও এতিমদের। এই উদ্দেশ্যেই এসব মাংস বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও সাংবাদিক ও রাজনৈতিক দলের ভাগ বসানো লজ্জাজনক। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই মাংস সাংবাদিকরা না নিলেও পারতেন।”

মাংস পাওয়ার কথা স্বীকার করে চিলমারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল আলম লিটু বলেন, “আমাদের প্রেসক্লাবে মাংস পেয়েছি। এগুলো নেওয়া ঠিক না। তবে আমাদেরকে ডেকে দিয়েছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুর রহমান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে দিয়ে সঠিকভাবে গরিব ও দুঃস্থদের মধ্যে মাংস বিতরণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও সাংবাদিকদেরকে দেওয়া হয়নি।”