যশোরে মাঘেই নেমেছে ভূ-গর্ভের পানির স্তর!

সাধারণত এ অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ২৬ ফুটের নিচে নামলে নলকূপে পানি ওঠে না।

শিকদার খালিদযশোর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Jan 2023, 09:15 AM
Updated : 25 Jan 2023, 09:15 AM

সাধারণত ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়ে চৈত্র মাসে দেশে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। তবে এ বছর মাঘ মাসের শুরুতেই যশোরের অধিকাংশ স্থানে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাব ও অপরিকল্পিতভাবে গভীর-অগভীর নলকূপ স্থাপনের কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে।খরা প্রলম্বিত হলে এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। 

সাধারণত এ অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ২৬ ফুটের নিচে নামলে নলকূপে পানি ওঠে না। কিন্তু এ বছর জেলার কোথাও কোথাও পানির স্তর এর মধ্যেই ৩০ থেকে ৩৫ ফুট নিচে নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদ পারভেজ। 

তিনি বলেন, বিশেষ করে যশোর সদর, বাঘারপাড়া, ঝিকরগাছা ও শার্শা এলাকায় এ অবস্থা দেখা দিয়েছে। তবে অভয়নগর উপজেলা ও মণিরামপুরে পানির স্তর এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে আছে। 

এই নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, শুধুমাত্র যশোর সদরে পাঁচ হাজার ৬২৫টি নলকূপ, সাবমার্সিবল ও তারা টিউবয়েল রয়েছে। এ উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ৩০ থেকে ৩৫ ফুট নিচে পানির উপস্থিতি দেখা গেছে। সামনে পানির স্তর আরও নামতে পারে। 

কী কারণে এ পরিস্থিতি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে খরা মৌসুমে এমনটা দেখা দেয় এ অঞ্চলে। 

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী যশোর জেলায় মোট অগভীর নলকূপের সংখ্যা ২৪ হাজার ৩২৩টি। অন্যান্য বছরে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যেতে থাকায় নলকূপগুলোতে মার্চ মাস থেকে ক্রমান্বয়ে পানি ওঠা বন্ধ হতে থাকে। 

তবে এ বছর চলতি জানুয়ারির শেষ সপ্তাহেই জেলার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নলকূপ দিয়ে পানি উঠছে না। এই হিসাবে বর্তমানে যশোরে আট হাজারেরও বেশি নলকূপে পানি উঠছে না।

যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশল (পানি) বিএম কামাল আহম্মেদ বলেন, যশোর শহরে পৌরসভার গভীর নলকূপ রয়েছে ২৯টি। আর তারা পাম্প রয়েছে ৫০০টি। এর বাইরে টিউবয়েল, সাবমর্সিবলের সংখ্যা রয়েছে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার। কিন্তু পানির স্তর নেমে যাওয়ায় এর দুই-তৃতীয়াংশে এর মধ্যে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে। 

যশোর বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী (সেচ) সোহেল রানা বলেন, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে নেমেছিল ৩১ ফিটে। আর ২০২০ ও ২০২১ সালে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নেমেছিল ২৫ ফিটে। 

সাধারণত এপ্রিল মাসে পানির স্তর সর্বোচ্চ নিচে নেমে যায়। তবে তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার একটু আগেভাগেই পানির স্তর নিচে নেমে গেছে বলে জানান তিনি। 

এই প্রকৌশলী আরও জানান, কৃষি কাজের সেচের কারণেও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এখন চলছে রবি মৌসুম। এ সময়ে ভূগর্ভ থেকে গভীর নলকুপ ও শ্যালো মেশিনে অপরিকল্পিতভাবে পানি উঠানো হয়। গভীর নলকূপের অত্যাধিক ব্যবহারের কারণে পানির স্তর নিচে নামে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মঞ্জুরুল হক বলেন, চলতি মৌসুমে যশোরে এক লক্ষ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে ধানের চারা রোপন হয়েছে। বাকিগুলো কয়েক দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। 

তিনি বলেন, অন্যান্য বছরে বোরোর আবাদের আগে একটি বৃষ্টিপাত হলেও এ বছর এখনও সেই বৃষ্টির দেখা মেলেনি। আশা করছি খুব দ্রুত বৃষ্টিপাত হলে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ হবে। ফলে সেচের অভাবে বোরো আবাদের ক্ষতি হবে বলে আপাতত মনে করছি না।   

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক