নেত্রকোণায় ভাগাড়ে পড়েছিল হিমালয়ান শকুন, চলছে চিকিৎসা

শকুনটিকে মাল্টিভিটামিন, স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রাণিহাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন।

নেত্রকোণা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Feb 2024, 09:18 AM
Updated : 6 Feb 2024, 09:18 AM

নেত্রকোণায় ময়লার ভাগাড়ে দুর্বল অবস্থায় পড়ে থাকা একটি হিমালয়ান শকুন উদ্ধার করেছে পরিবেশবাদীরা। পরে চিকিৎসা দিয়ে বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে শকুনটি।

সোমবার দুপুরে শহরের রাজুর বাজার এলাকার ময়লাকান্দায় পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ে শকুনটি পাওয়া যায় বলে জানান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইনডিজেনাস নলেজ (বারসিক) নেত্রকোণা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমান জানান।

তিনি বলেন, সকালে শহরের কূড়পাড় এলাকার ড্রেনে পড়েছিল একটি শকুন। পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীরা শকুনটিকে ড্রেন থেকে তুলে শহরের রাজুর বাজারের ময়লাকান্দা এলাকায় ময়লার ভাগাড়ে নিয়ে ফেলে রাখে।

“বিষয়টি জানতে পেরে  বন্যপ্রাণী ও বৃক্ষ প্রেমী আব্দুল হামিদকে সঙ্গে নিয়ে ময়লার ভাগাড়ে গিয়ে দেখি শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় শকুনটিকে পড়ে রয়েছে।”

বারসিকের এই সমন্বয়কারী অহিদুর বলেন, শকুনটি তখনও জীবিত আছে বুঝতে পেরে সেটিকে উদ্ধার করা হয়। শকুনটিকে বাঁচাতে চিকিৎসার জন্যে দ্রুত নিয়ে যাই সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে।

তিনি বলেন, “আবাসস্থল কম আর খাদ্য সংকটে শকুন কমে এসেছে। শকুন আমাদের পরিবেশের উপকারী ও প্রয়োজনীয় প্রাণী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বন্যপ্রাণীর প্রতি সবাইকে যত্নশীল হওয়ার প্রয়োজন।

বন্যপ্রাণী ও বৃক্ষ প্রেমী আব্দুল হামিদ বলেন, “হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানের চিকিৎসক শকুনটিকে দেখে জানান, খাবার সংকটে শকুনটি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসক স্যালাইনসহ কিছু ওষুধ দেন আর খাবার দিতে বলেন।

“তখন সেখানে উপস্থিত সবাই ১০/২০ টাকা করে চাঁদা তুলে ওষুধ আর মুরগি কিনে শকুনটিকে খেতে দেই। পরে হস্তান্তর করি বন বিভাগে।”

এটি একটি হিমালয়ান গ্রিফন শকুন। এটির বৈজ্ঞানিক নাম জিপস হিমালয়েনসিস (Gyps himalayensis)। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ বা আইইউসিএনের লাল তালিকায় হিমালয়ান গ্রিফন শকুনকে রাখা হয়েছে ‘প্রায়-বিপদগ্রস্ত’ ক্যাটাগরিতে। এর মানে হল, এই প্রাণীর প্রজাতি নিকট ভবিষ্যতে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

জেলা প্রাণিহাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন মিজানুর রহমান বলেন, খাদ্য সংকটের কারণে শকুনটি দুর্বল হয়ে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে থাকতে পারে। শকুনটিকে মাল্টিভিটামিন, স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। 

জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রফিক বলেন, “খবর পেয়ে সোমবার দুপুরের দিকে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে যাই। সেখান থেকে পরিবেশবাদীদের সহায়তায় শকুনটিকে বন বিভাগের হেফাজতে নিয়ে আসি।”

তিনি বলেন, শকুনটিকে সুস্থ-সবল করতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। চিকিৎসকের দেয়া ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী স্যালাইন খাওয়ানো ও খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ, সবল অবস্থায় আবার নিজ বাসস্থানে ফিরতে পারবে শকুনটি।