১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১ কার্তিক ১৪৩৩

মাদক-জুয়া ও বালু তোলা বন্ধের ঘোষণা ঘিরে বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি আরেক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 16 Oct 2026, 08:38 PM

Updated : 16 Oct 2026, 08:38 PM

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় মাদক-জুয়া, অবৈধ বালু উত্তোলন ও মা ইলিশ শিকার বন্ধের ঘোষণা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি আরেক বিএনপি নেতা রহমত ফরাজীকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি।

শুক্রবার দুপুরে এ তথ্য জানান এসআরবি-৮-এর মিডিয়া অফিসার ও সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ালিদ হাসান মিঠু।

তিনি বলেন, এসআরবি-১০-এর সহযোগিতায় গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে রহমত ফরাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে মুলাদী থানায় দেওয়া হয়েছে।

নিহত শুক্কুর আলী বেপারী (৪০) উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চরধলেশ্বর গ্রামের আব্দুস ছত্তার বেপারীর ছেলে। তিনি গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন। রহমত ফরাজীও একই ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, মঙ্গলবার ডুমুরীতলা লঞ্চঘাট এলাকায় মাদক ও জুয়ার আসর, নয়াভাঙনী নদ থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা এবং মা ইলিশ শিকার বন্ধের ঘোষণা দেন শুক্কুর আলী। এসব কাজ ঠেকাতে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে কাজ করার কথাও বলেন তিনি।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এর জেরে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকার সালাউদ্দীনের দোকানে চা খাওয়ার সময় শুক্কুর আলীর ওপর হামলা হয়।

শুক্কুর আলীর বাবা আব্দুস ছত্তার বেপারী অভিযোগ করেন, রহমত ফরাজী, গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বারেক ফরাজী (৩৬), মুজাম্মেল ফরাজী (৩২), মন্টু ফরাজী, রফিক ফরাজী ও তাসলিমা নাসরিনসহ কয়েকজন তার ছেলেকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে বৃহস্পতিবার ভোর চারটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মুলাদী থানার ওসি কে এম সোহেল রানা বলেন, এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের বিরোধ ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। মাদক-জুয়া, বালু তোলা ও মা ইলিশ শিকার বন্ধের ঘোষণা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে শুক্কুর আলী আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নয়জনের নাম দিয়ে হত্যা মামলা হয়েছে।

ওয়ালিদ হাসান বলেন, স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার নিয়ে শুক্কুর আলীর সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। কৃষ্ণপুর এলাকায় জুয়া খেলতে নিষেধ করায় তারা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।