১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আশুলিয়ার কারখানায় বানানো হচ্ছিল ‘নকল ওরস্যালাইন’

আশুলিয়ার নিরিবিলির ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় ‘বিজি ফ্রেশ ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড’ নামের ওই কারখান থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আশুলিয়ার কারখানায় বানানো হচ্ছিল ‘নকল ওরস্যালাইন’

এসএমসি কোম্পানির মোড়কে বাজারজাত করা হত খাবার স্যালাইনগুলো

সাভার প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Oct 2022, 12:56 PM

Updated : 24 Oct 2022, 12:56 PM

সাভারের আশুলিয়ায় নকল খাবার স্যালাইন তৈরি একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ, যে স্যালাইনগুলো ‘এসএমসি’ কোম্পানির মোড়কে বাজারজাত করা হত দেশের নানা জায়গায়।

শনিবার রাতে আশুলিয়ার নিরিবিলির ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় ‘বিজি ফ্রেশ ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড’ নামের ওই কারখান থেকে ‘কেমিস্ট’ মিরাজুল ইসলাম মোল্লা (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Image

নকল ইনো ও ট্যাংও তৈরি হত ‘বিজি ফ্রেশ ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড’ কারখানায়

কারখানাটি থেকে নকল ‘ইনো’ এবং ‘ট্যাং’ জব্দ কররার কথাও পুলিশ জানিয়েছে।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাশিদ জানান, এসএসসির উত্তীর্ণ না হওয়া মিরাজুল ইসলাম মোল্লা ‘বিজি ফ্রেশ ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেডে’ কেমিস্ট হিসাবে কাজ করতেন। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানার টিহাটি গ্রামের মৃত ময়ের আলী মোল্লার ছেলে তিনি।

ওই কারখানায় নকল স্যালাইন তৈরি হয় এমন খবর পেয়ে ‘এসএমসি’ কোম্পানির কয়েকজন কর্মকর্তা প্রথমে সেখানে খোঁজ খবর নিতে যান। সেখানে গিয়ে নকল স্যালাইনের চালানসহ এক কর্মচারীকে ধরার পর তারা পুলিশে খবর দেন।

Image

‘বিজি ফ্রেশ ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড’ কারখানার ‘কেমিস্ট’ মিরাজুল ইসলাম মোল্লা স্কুল পার হতে পারেননি

এসএমসি এন্টারপ্রাইজের ঢাকা পশ্চিম জোনের সিনিয়র সেলস ম্যানেজার মো. গোলাম রিয়াজ বলেন, “সন্ধ্যার দিকে কারখানাটির সামনে গিয়ে আমরা দেখি নকল স্যালাইন ভর্তি কার্টন বাজারজাত করার জন্য ভ্যানে তোলা হচ্ছে। সে সময় আমরা তাকে (মিরাজুল) ধরে ফেলি। পরে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতেই বিপুল পরিমাণ স্যালাইন তৈরির কাঁচা মাল ও আমাদের কোম্পানি মোড়ক দেখতে পাই।”

পরিদর্শক আব্দুর রাশিদ বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে মালামাল জব্দ করি ও একজনকে গ্রেপ্তার করি। এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।“

এসএমসির কর্মকর্তা মো. গোলাম রিয়াজ বলেন, “কারখানাটিতে চিনি ও সোডিয়ামের সাথে কাপড়ের রঙ মিশিয়ে তৈরি করা হত এসএমসির ওরস্যালাইন। এছাড়া গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ নকল ইনো ও ট্যাং তৈরি করে তা বজারজাত করা হত।“

কারখানার মালিক মিজানুর রহমান জাহিদ, লিপন গাজী ও মো. সাদেক হোসেনকে এখন ধরতে পারেনি পুলিশ।