আন্দোলনের মুখে স্কুল ছাড়া প্রধান শিক্ষকের ফেরা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৩
৫ অগাস্টের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন প্রধান শিক্ষক। পরে তার পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের যোগদান নিয়ে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের সরলখাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান আদিতমারী থানার ওসি নাজমুস সাকিব সজীব।
আহতদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনোয়ারুল, হামিদুল, সিয়াম, সামিউল ও নবম শ্রেণির রুবেল রয়েছেন।
আহতদের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হন প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম। এর পর থেকে তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।
কিছুদিন ধরে শিক্ষার্থীরা আবার তার পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস তাকে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে নিজ পদে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে স্থানীয় একটি পক্ষ তার যোগদানে বাধা দিয়ে আসছিল।
মঙ্গলবার দুপুরে রশিদুল আলম বিদ্যালয়ে যোগ দিতে গেলে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠেছে। তাকে রক্ষা করতে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আহত হন।
আহত শিক্ষার্থী মনোয়ারুল ইসলাম বলে, “আগে বুঝতে না পেরে আমরা প্রধান শিক্ষকের বিরোধিতা করেছিলাম। পরে বুঝেছি, তাকে ছাড়া স্কুলের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আজ তিনি স্কুলে আসলে বহিরাগতরা হামলা চালায়। আমরা এই হামলার বিচার চাই।”
প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে স্কুলে গিয়েছিলাম। বহিরাগত ৪০-৫০ জন এসে আমার ওপর এবং আমাকে বাঁচাতে আসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায়।”
এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কার্তিক কুমার প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলমের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
আদিতমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, রশিদুল আলমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তদন্ত করে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) পাঠানো হয়েছিল। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তাকে অনেক আগেই যোগ দিতে বলা হয়। তবে স্থানীয় একটি পক্ষের বাধার কারণে তিনি যোগ দিতে পারছিলেন না।
ওসি নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
