নাটোরে প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ
আর্থিক অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগে নাটোরে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ।
বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগে নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাসমিন আহম্মেদের অপসারণ ও বিচারের দাবিতে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা ১১টার দিকে তারা সড়ক অবরোধ করলে শহরের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টার দিকে নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় ঘেরাও করে তার বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে থাকে শত শত শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে তারা মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান সড়কে অবস্থান নেয় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্তব্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে অভিভাবকদের অনুরোধে আধা ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে পুনরায় শিক্ষকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যায়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আয়েশা, মুন্নী ও দীপাসহ একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, "টিফিনের জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হলেও অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়। বিভিন্ন খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত ফি ও অর্থ আদায় করা হলেও মূল খরচের হিসাবে কম দেখানো হয়। এ ছাড়া উনার আচরণ এতই খারাপ যে উনার সঙ্গে সাধারণ কোনো বিষয়ে কথাই বলা যায় না।"
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করে, পাঠদানে চরম অনিয়ম এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাব জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত প্রধান শিক্ষক।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকেরাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাঁচ থেকে সাতজন শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গেও প্রতিনিয়ত অপমানজনক আচরণ করেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে সাংবাদিকদের ওপরও ক্ষিপ্ত হন অভিযুক্ত শিক্ষক। নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আহম্মেদ বলেন, "আপনাদের সঙ্গে এখন আমি এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না।"
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও অভিযোগ তদন্তে স্কুল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আবুল হায়াত জানান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে শুধু আশ্বাস নয়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে অপসারণ ও বিচারে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
