সুনামগঞ্জে ছাত্রদল-শিবির ধাওয়া পাল্টাধাওয়া, জামায়াত কার্যালয় ভাঙচুর
এ সময় বিএনপি নেতার মালিকানাধীন পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর এবং তিন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন।
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় জামায়াতের ইউনিয়ন কার্যালয় এবং বিএনপি নেতার মালিকানাধীন একটি পেট্রোল পাম্পসহ কয়েকটি দোকান ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে শিবিরের নেতাকর্মীদের হাতে তিন সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তি নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন শুরু হয়। বেলা ১২টার দিকে ওরিয়েন্টেশন শেষে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে নবীনদের স্বাগত এবং নাশকতাবিরোধী মিছিল নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টের দিকে আসার প্রস্তুতি নেয়।
এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে উভয়পক্ষ ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক ও গোবিন্দগঞ্জ সড়কে অবস্থান নিয়ে ট্রায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাদের হাতে দেশি অস্ত্র দেখা যায়।
এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার মধ্যে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতা রুহুল আমিনের পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর করেন। প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও সৈদেরগাঁও ইউনিয়ন জামায়াতের কার্যালয় ভাঙচুর করেন। এ সময় কয়েকটি দোকান ও যানবাহনও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এসব ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়ালে অনেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চলে যান। সড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মোশাহিদ আলী, এআর সায়েম এবং লোকমান আহমদ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার ছাতক উপজেলা প্রতিনিধি মোশাহিদ আলী বলেন, “ছাত্রশিবিরের সশস্ত্র ছবি তুলতে গেলে, তারা আমাদের তিনজনের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ছাড়া তারা আমাদের হেনস্তা করেন। ঘটনাটি তাদের নেতারাও দেখেছেন।”
গোবিন্দগঞ্জ কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুনেদ আহমদ বলেন, “আমরা শিক্ষা বান্ধব কর্মসূচি নিয়ে নবীনদের বরণ করেছিলাম। এ কারণে ছাত্রদল আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করেছে। তারা ক্যাম্পাসকে অস্ত্রাগারে পরিণত করতে চায়। আমরা সেটা হতে দেব না।”
ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহবুব আহমেদ বলেন, “আমরা ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান শেষে ক্যাম্পাস থেকে নাশকতাবিরোধী মিছিল দিয়ে বাইরে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এ সময় ছাত্রশিবির আমাদের মিছিলে বাধা দেয় এবং প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করেন।
“এর জেরে আমাদের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করলে, তারা হামলা করেন। এক পর্যায়ে শিবিরের নেতাকর্মীরা দেশি অস্ত্র নিয়ে সড়কে এসে যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুর করেন। এ ছাড়া বিএনপি নেতার পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় তারা।”
ছাতক উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফিজ জাকির হোসাইন বলেন, “ছাত্রদল আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করেছে। তাদের হাতে আমাদের কলেজ শিবির সেক্রেটারি মাহফুজ, উপজেলা শিবির সেক্রেটারি নাঈমসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
“তারা আমাদের ইউনিয়ন জামায়াতের অফিস ভাঙচুর করেছেন। আমরা এখন আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। পরে আইনি ব্যবস্থা নেব।”
ছাত্রশিবির গোবিন্দগঞ্জ কলেজকে ক্যাম্প বানাতে চায় অভিযোগ করে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তারেক মিয়া বলেন, “সাধারণ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে ক্যাম্পাস দখল করে অরাজকতা ও নাশকতা করতে চায় শিবির।
“তাই ছাত্রদলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করেছেন তারা। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘কটূক্তি’ করেছেন তারা। তাদের সন্ত্রাসের জবাব রাজপথেই দেওয়া হবে।”
গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সবিবুর রহমান মতি বলেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো হাঙ্গামার ঘটনা ঘটেনি। বাইরে ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ছাতক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, দুপুরের দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
