Published : 09 Apr 2023, 08:08 PM
ঢাকার সাভারে ‘দলবল নিয়ে’ বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট দখল চেষ্টার অভিযোগে আটক এক ছাত্রলীগ নেতাকে থানায় নেওয়ার পর সমঝোতার আশ্বাসে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
শনিবার বিকালে সাভার পৌর এলাকার মজিদপুর মহল্লা থেকে পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম আক্তার বাবুকে আটক করা হয়।
পরে রাতে সমঝোতার আশ্বাসে এক যুবলীগ নেতার জিম্মায় মুক্তি মেলে তার।
সাভার মডেল থানার এসআই মজিবুর রহমান ভুঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওয়াসিম আক্তার বাবুকে থানায় নিয়ে আসি।
“পরে থানায় কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে বিষয়টি দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসার আশ্বাস দিলে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তি তার জিম্মায় বাবুকে নিয়ে থানা থেকে চলে যান।”
মামুন আগে ছাত্রলীগ করতেন। এখন যুবলীগে যুক্ত আছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
বাবুকে নিয়ে আসার ব্যাপারে মামুনের বক্তব্য জানা যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। বাজার রোডের বাসায় দিনভর তিনি ছিলেন না। এলাকায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
যে ভবনে ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ সেটি সাভারের মজিদপুর মহল্লায় অবস্থিত। ১০ তলা ভবনটির মালিক মারুফ হোসেন খান।
তিনি জানান, দ্বিতীয় তলা ফ্ল্যাটের একটি ইউনিটে তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। পাশের দেড় হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটটি খালি অবস্থায় তালাবদ্ধ রয়েছে। ফ্ল্যাটের ভেতরে দামি মালামাল রাখা আছে।
তার অভিযোগ, শনিবার বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে ওয়াসিম আক্তার বাবুর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন মারমুখী হয়ে ভবনে প্রবেশ করে নিরাপত্তা প্রহরীকে বেঁধে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
“পরে প্রত্যেক ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে আটকে দরজায় লাগানো ‘ডোর ভিউতে’ স্প্রে করে কালো রং লাগিয়ে দেয়। পরে দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটের দরজার তালা ভাঙার চেষ্টা করলে জরুরি সেবা ৯৯৯ -এ ফোন করলে পুলিশ এসে বাবুকে থানায় নিয়ে যায়।”
থানায় নেওয়ার পর মামলা না করে তাকে ছেড়ে যেতে দিতে রাজি হলেন কেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এলাকার মুরুব্বি ও গণ্যমান্যরা সেখানে গিয়ে মীমাংসা করে দেওয়ার কথা জানানোর পর তিনি আর না করেননি।
তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ বললেও বাবু ফ্ল্যাটে হানা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নিজে ফোন করে বিডিনিউজ টোয়েন্টফোর ডটকমকে এই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, “ফ্ল্যাট দখল তো দূরের কথা, ওখানে আমি যাই-ইনি। কেউ এ কথা বলতে পারবে না।”
পরে আরেকবার ফোন করে তিনি বলেন, “ফ্ল্যাট নিয়ে ঝামেলা অছে, এ বিষয়ে পরে সাক্ষাতে কথা বলব।”
সাভার পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি মাসুম দেওয়ান বলেছেন, “কেউ যদি ব্যক্তি স্বার্থে সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ করে, তাহলে সেই দায়ভার সংগঠন বহন করবে না।”