স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

রফিকুলকে অস্ত্রের মুখে তুলে চনপাড়ায় বজলু মেম্বারের অফিসে নিয়ে হাতে ও পায়ে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Sept 2022, 04:40 PM
Updated : 11 Sept 2022, 04:40 PM

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এক নেতাকে তুলে নিয়ে ‘আট ঘণ্টা’ আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

রফিকুল ইসলাম নামের ওই নেতার পরিবারের অভিযোগ, রোববার সকাল ১০টায় উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া মোড় থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টায় ছেড়ে দেয়।

নির্মাণ শ্রমিক রফিকুল ইসলাম (৩৫) স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। স্বেচ্ছাসেবক দলের চনপাড়া সাংগঠনিক ইউনিয়নের প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি পদপ্রার্থী তিনি।

এদিকে অভিযোগের মুখে থাকা বজলুর রহমান কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য।

রফিকুলের দেওয়া তথ্যের বরাতে তার পরিবারের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, সোমবার রফিকুল চনপাড়া মোড়ে কাজের ব্যাপারে একজনের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। তখন সেখানে একটি সাদা প্রাইভেটকার এসে থামে। গাড়ির পেছনে একটি পুলিশের গাড়িও ছিল। গাড়ি থেকে তিন গানম্যানসহ নেমে আসেন বজলু মেম্বার। পরে রফিকুলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গাড়িতে তুলে চনপাড়ায় মেম্বারের অফিসে নিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। হাতে ও পায়ে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়।

দুপুরে বজলু মেম্বার তার এক লোকের মাধ্যমে চার লাখ টাকা মুক্তিপণও দাবি করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পরে লোক মারফত বজলু মেম্বারের অফিসে গিয়ে হাতে-পায়ে ধরে রফিকুলকে ছাড়িয়ে আনা হয় বাড়িতে।”

এই ঘটনায় রফিকুল ইসলামের পরিবারের লোকজন ‘ভয়ে’ সব কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না বলে জানান।

রফিকুলের বোন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মেম্বারের সাথে ব্যক্তিগত কোন দ্বন্দ্ব আমাদের নাই। বিরোধীদলের রাজনীতি করার জন্য এইভাবে তুলে নেওয়া হইছে তাকে। ভাইয়ারে মাইরা ফেলে কিনা এইটা নিয়াই ভয়ে ছিলাম। যাক জীবিত বাড়িতে আনতে পারছি এইটাই অনেক। এইটা নিয়া আর কথা বলতে চাইতেছি না।”

সকাল ১০টায় তুলে নেওয়ার পর সন্ধ্যায় ৬টায় বজলুর রহমানের চনপাড়ার তিন নম্বর সেক্টরে সেতুবন্ধন এলাকায় অবস্থিত ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে রফিকুল ইসলামকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় বলে জানান তার বোন।

রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো না থাকার কারণে প্রায় মাসখানেক এলাকার বাইরে। আজকে পরিবারের লোকজনের সাথে দেখা করার জন্য এলাকায় আসছিলাম। রাস্তায় মেম্বার সাহেব আমারে আটকাইল। তারপর গাড়িতে তুইলা অফিসে নিয়া গেল। হাত-পা বাইন্ধা সেখানে হাতুড়ি দিয়া পিটাইছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাকে গাড়িতে তোলার সময় পেছনে একটি পুলিশের গাড়ি ছিল। পুলিশের একজন সদস্য বজলু মেম্বারের সাথে কথাও বলছে। আবার আমাকে ছাড়ার সময়ও অফিসের সামনে একজন পুলিশের পোশাক পরা সদস্য ছিলেন।”

রফিকুল আরও বলেন, “আমারে ছাড়াইতে মা, স্ত্রী ও ছোটবোন গিয়া কান্নাকাটি করছে। পরে বজলু মেম্বারের কাছে একটা ফোন আসে। ফোন পেয়ে তিনি বাইরে চলে যান। পরে ভেতরে আইসা বলেন – ‘এক মিনিটও খাড়াবি না; চইলা যা।’ ছাড়ার সময় আমার মোবাইলটা রাইখা দেয়।”

ছাড়া পাওয়ার পর প্রথমে নিজের বাড়ি যান রফিকুল; পরে সেখান থেকে এক আত্মীয়ের বাসায় চলে যান বলে জানান তিনি।

তবে এই বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করেন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি সারাদিন ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে ছিলাম। চনপাড়া অনেক বড় এলাকা। রফিকুল নামে কাউকে আমি চিনি না। আমি বা আমার লোকজন কাউকে গাড়িতে তোলেনি।”

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সন্ধ্যা সাতটায় রূপগঞ্জ থানার ওসি এএফএম সায়েদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই বিষয়ে পুলিশকে কেউ জানায়নি। আপনার মাধ্যমেই শুনতে পারলাম। এত ঘণ্টা আটকে রেখেছে – এইটা তো ৯৯৯ নম্বরে কল করেও পরিবারের লোকজন জানাতে পারত। কেউ না জানালে পুলিশ কীভাবে জানবে?”

ঘটনাস্থলে এবং ইউপি সদস্যের কার্যালয়ের সামনে পুলিশ সদস্যের উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, “এই ঘটনার কিছুই জানি না। কোনো পুলিশ সদস্যও সেখানে ছিল না। পরিবারের লোকজন এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেব।”

তবে রফিকুল ইসলামকে তুলে নেওয়ার বিষয়ে দুপুরেই পুলিশকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন চনপাড়া ইউনিয়ন (সাংগঠনিক) বিএনপির সভাপতি হারুণ মিয়াজি।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রফিকুলের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানতে পারি। তারপরই দলের পক্ষ থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক