‘কিশোর গ্যাং’: চাঁদপুরে ৩৭০ জন আটক, অভিভাবকদের সতর্ক করল পুলিশ
“উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি এবং বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কার্যক্রমসহ নানা বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে।”
কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ও কিশোর অপরাধ ঠেকাতে চাঁদপুরের আট উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩৭০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এ সময় আটকদের অভিভাবকদের সন্তানদের বিষয়ে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকালে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নাদিয়া নূর জানান, রোববার সন্ধ্যার পর চালানো এ অভিযানে ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, আটকদের মধ্যে কয়েকজনের মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় কয়েকজনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) নির্দেশে এবং চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় জেলার সব থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যদের সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে চাঁদপুর সদরে ৩৫ জন, হাইমচরে ৪৮, ফরিদগঞ্জে ৪১, হাজীগঞ্জে ৩৭, কচুয়ায় ৬২, শাহরাস্তিতে ৪৫, মতলব উত্তরে ৫২ এবং মতলব দক্ষিণে ৩৬ জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া গোয়েন্দা পুলিশ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ১৪ জনকে আটক করে।
আটকদের মধ্যে ৩৫৫ জনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ জনের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া নূর বলেন, “আটকদের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। কয়েকজনের মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
“কারও বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযানে আটক সবাই অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের অভিভাবকদের ডেকে সন্তানদের বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, পড়াশোনায় মনোযোগী করা এবং ভবিষ্যতে যাতে তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক করে পুলিশ।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে পারিবারিক নজরদারির অভাব ও অনলাইন কার্যক্রমসহ নানা বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে।
“কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
জেলার শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
