১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বরিশাল মেডিকেলে ‘র‌্যাগিং’ তদন্তে কমিটি

কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল মেডিকেলে ‘র‌্যাগিং’ তদন্তে কমিটি

সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষের কক্ষে বৈঠকে বসেন দুই পক্ষের নেতারা।

বরিশাল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Aug 2023, 08:34 PM

Updated : 27 Aug 2023, 08:34 PM

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রী নিবাসে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ তদন্তে কমিটি করেছে কর্তৃপক্ষ। 

রোববার বিকালে কলেজ উপাধ্যক্ষ জি এম নাজিমুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কলেজ অধ্যক্ষ ফয়জুল বাশার চার সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। 

অধ্যাপক উত্তম কুমার সাহার নেতৃত্বে কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহা, প্রভাষক আনিকা ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম। 

কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান উপাধ্যক্ষ।   

২৩ অগাস্ট রাতে তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে পঞ্চম বর্ষের ছাত্রী নীলিমা হোসেন জুঁই দুইবার কক্ষে ডেকে নিয়ে র‌্যাগিংয়ের নামে ‘মানসিক নির্যাতন’ চালালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে তার মায়ের অভিযোগ।  

ওই ছাত্রী শনিবার অভিযোগ জানাতে কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। এ সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাত সাংবাদিক কলেজ কর্তৃপক্ষের হামলার শিকার হন। 

সাংবাদিকদের অভিযোগ, তারা যখন অধ্যক্ষের কক্ষে ওই ছাত্রীর বক্তব্য নিচ্ছিলেন; তখন কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ বাকী বিল্লাহ ও প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহা ও অফিস সহকারীদের কয়েকজন সাংবাদিকদের চড়-থাপ্পর ও পিটিয়ে ধাক্কাতে ধাক্কাতে তাদের বের করে দেন।  

পরে কলেজ অধ্যক্ষ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমঝোতা হয়। 

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন প্রবীর কুমার সাহাকেও তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে। 

ওইদিন রাতে উপাধ্যক্ষ নাজিমুল হক ছাত্রী নিবাসে কোনো ধরনের র‌্যাগিংয়ের কথা অস্বীকার করে বলেছিলেন, “ছাত্রী নিবাসে কোনো র‌্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রী নিবাসের একটি কক্ষে তিন ছাত্রীর মধ্যে একটু দ্বন্দ্ব হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়েছিলো। 

“একপক্ষ ছাত্রী নিবাসের ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে বিচার দেয়। ব্যবস্থাপনা কমিটির বিচার করায় একজন ক্ষুব্ধ হয়। তাই সে ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।” 

উপাধ্যক্ষ সেদিন আরও জানিয়েছিলেন, ছাত্রী নিবাসের যে ব্যবস্থাপনা কমিটি সেই কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। 

সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রী নিবাস ব্যবস্থাপনা কমিটি মূলত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়েই করা হয়ে থাকে। পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী নীলিমা হোসেন জুঁই সেই কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। 

যদিও নীলিমা হোসেন জুঁই শনিবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “যেসব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন।” 

আরও পড়ুন:

পুরানো খবর:

বরিশাল মেডিকেল: ‘র‌্যাগিং’ নিয়ে যা বললেন ছাত্রীর মা

পুরানো খবর:

বরিশাল মেডিকেলে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার ৭ গণমাধ্যমকর্মী