২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে যমুনায় পানি, ভাঙছে বসতবাড়ি

সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮৪ এবং কাজিপুর পয়েন্টে ২১১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাউবো।

টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে যমুনায় পানি, ভাঙছে বসতবাড়ি
২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের হার্ডপয়েন্ট এলাকায় দুই সেন্টিমিটার এবং কাজিপুর উপজেলার মেঘাই পয়েন্টে দুই সেন্টিমিটার বেড়েছে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jul 2025, 06:37 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:21 PM

টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি জেলার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতেও পানি বাড়ছে। এতে জেলা সদর, কাজীপুর, চৌহালী, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলায় নদীতীরে দেখা দিয়েছে ভাঙন।

এর মধ্যে এসব এলাকার বেশকিছু আবাদি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে নদীতীরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। দিনভর বৃষ্টির কারণে দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ। বিশেষ করায় নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় নাজমুল হোসাইন বলেন, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের হার্ডপয়েন্ট এলাকায় দুই সেন্টিমিটার এবং কাজিপুর উপজেলার মেঘাই পয়েন্টে দুই সেন্টিমিটার বেড়েছে। 

তবে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৮৪ ও কাজিপুর পয়েন্টে ২১১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

স্থানীয়রা জানান, জেলা সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি ও বাহুকা, কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, খাসরাজবাড়ি, চৌহালী উপজেলার খাসবাজবাড়ি ইউনিয়নের জনতার স্কুল এলাকা ও স্থল ইউনিয়নের তেঘরি, শাহজাদপুর উপজেলার গালা, সোনাতনী ও কৈজুরী এবং বেলকুচি উপজেলা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। 

এর মধ্যে এসব অঞ্চলের আখ, পাট, বাদাম ও কাউনসহ বহু ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কাজিপুরের চরগিরিশ ইউনিয়নের ভেটুয়া এলাকায় অন্তত ১০০টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া কাজিপুরের নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের ফুলজোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরগিরিশ নিম্ন মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় ও ভেটুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। 

সম্প্রতি নদী ভাঙনরোধে চৌহালী উপজেলার স্থল ইউনিয়নের তেঘরি এলাকার নদীতীরে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, নদীতে পানি বাড়ার কারণে প্রবল স্রোত বইছে। ফলে নদীতীরের কিছু কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। 

সদর উপজেলার ভাটপিয়ারী ও বাহুকা এলাকায় জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া নদীতীরে সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। নদীতে পানি বাড়লেও এই মুহূর্তে বন্যার আশঙ্কা নেই।