Published : 02 Jul 2025, 08:54 PM
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় চাঁদার দাবিতে স্বামীকে মারধর করে স্ত্রীকে ‘দলবেঁধে ধর্ষণের’ ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার হলেন।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে মামলার ৫ নম্বর আসামি মো. মানিককে (৩৫) আটক করা হয়েছে বলে র্যাব-৮ এর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শাহরিয়ার রিফাত জানান।
তিনি জানান, তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে এই ঘটনায় ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে মোসা. ঝর্ণা বেগম নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই দম্পতি সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার রাতে দ্বিতীয় স্ত্রীর ডাকে তার বাসায় যান স্বামী। সেখানে গেলে কয়েকজন তাকে আটকে রেখে টাকার দাবিতে রাতভর নির্যাতন চালান। তার প্রথম স্ত্রীকে টাকা নিয়ে স্বামীকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়।
রোববার সকালে প্রথম স্ত্রী ঘটনাস্থলে গেলে চার লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেটি দিতে অসম্মতি জানালে ওই ব্যক্তিকে পাইপ ও রড দিয়ে বেদম মারধর করা হয়। একপর্যায়ে দুপুরের দিকে তাকে বাড়ি থেকে সরিয়ে তার প্রথম স্ত্রীকে ‘দলবদ্ধ ধর্ষণ’ করা হয়। এরপর সেই ব্যক্তি ও তার প্রথম স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তজুমদ্দিন উপজেলা শ্রমিকদলের এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দিন ও আলাউদ্দিন ‘ধর্ষণ’ করেন বলে অভিযোগ দম্পতির।
এ ঘটনায় পাঁচজনের নামে মামলা হয়েছে।
ছাত্রদলের দুজন বহিষ্কার
‘দলবেঁধে ধর্ষণের’ ঘটনায় তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
মঙ্গলবার ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রাসেল এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জয়নাল আবেদীন সজীবকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হল।
সোমবার এ ঘটনায় উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফরিদ উদ্দিনকেও দলীয় পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
প্রতিবাদ সভায় ছাত্রদলের দু’পক্ষের সংঘর্ষ
‘দলবেঁধে ধর্ষণের’ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার মোল্লার পুকুর পাড় এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল। এ সময় দু’পক্ষের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তজুমদ্দিন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. মমিনুল ইসলাম শাকিল অভিযোগ করেন, “সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই ধর্ষণ মামলার আসামি মো. ফরিদ উদ্দিন, আলাউদ্দিনের হামলা করা হয়। এ সময় চাঁদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের উত্তর শাখার সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিনসহ ৩০-৪০ জন পাইপ, লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেন। এতে ১০ থেকে ১২ জন আহত হন।”
তিনি এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
তবে চাঁদপুর ইউনিয়নের উত্তর শাখার ছাত্রদল সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারাও ধর্ষণের প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। ফিরে যাওয়ার সময় তজুমদ্দিন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. মমিনুল ইসলাম শাকিল, চাঁদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শাখার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাব্বির তালুকদারসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
মঙ্গলবার গভীর রাতে আহতদের মধ্যে চারজনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হলেন- তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. মমিনুল ইসলাম শাকিল, চাঁদপুর ইউনিয়ন দক্ষিণ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাব্বির তালুকদার, ছাত্রদল কর্মী মো. মেহেদী পাটওয়ারি ও মো. শামিম।
এ ঘটনায় নাজিম উদ্দিন নামের একজন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তজুমদ্দিন থানার ওসি মো. মহব্বত খান। তিনি বলেন, আরেকজন মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন।
মিথ্যা ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচার: পুলিশ
মঙ্গলবার বিকাল থেকে একটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় সেটি ভোলার তজুমদ্দিনের ধর্ষণের ঘটনার।
তবে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে সতর্ক করে জানানো হয়, বেশ কয়েকটি অনলাইন মাধ্যমে একটি এডিটেড ভিডিওকে ভোলা জেলার তজুমদ্দিন থানার ঘটনা বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা হতে সচেতন থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ভোলায় স্বামীকে আটকে মারধর ও স্ত্রীকে 'দলবদ্ধ ধর্ষণের' অভিযোগ