১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আসামির সঙ্গে পুলিশের নৈশভোজের’ ছবি তোলায় লাঠিপেটা, ২ ওসি প্রত্যাহার

লালমনিরহাটে লাঠিচার্জে বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

‘আসামির সঙ্গে পুলিশের নৈশভোজের’ ছবি তোলায় লাঠিপেটা, ২ ওসি প্রত্যাহার
লালমনিরহাট সদরে লাঠিচার্জে আহত বিএনপির এক নেতা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jan 2025, 08:37 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:33 AM

লালমনিরহাট সদরে হত্যাচেষ্টা মামলার এক ‘আসামির সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের নৈশভোজের’ ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে লাঠিপেটায় বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। 

এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানার ওসি ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসিকে প্রত্যাহার করেছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মোস্তফীহাট এলাকার আখেরুল ইসলামের একটি হিমাগারে লাঠিপেটার ঘটনা ঘটে বলে জানান লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম।

আখেরুল ইসলাম উপজেলার গোকুণ্ডা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি। 

তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আহতদের মধ্যে গোকুণ্ডা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান নয়ন (৩৬) এবং ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব হোসেন (২৫) লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। 

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, রাতে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলীসহ লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, সদর থানার ওসি আব্দুল কাদের এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি ফিরোজ হোসেন ওই হিমাগারে নৈশভোজে অংশ নেন।

গোকুণ্ডা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলতাব হোসেন ব্যাপারী বলেন, “হিমাগারে হত্যা মামলার আসামির সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের নৈশভোজের খবর পেয়ে স্থানীয় যুবদলের দুই কর্মী সেখানে গিয়ে মোবাইলে ছবি তোলার চেষ্টা করেন। ছবি তুলতে বাধা দেওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। 

“খবর পেয়ে বিএনপির আরও কিছু নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিপেটা শুরু করে। এতে পাঁচজন আহত হন। পরে রাত ১টার দিকে লাঠিপেটার প্রতিবাদে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম সড়ক অবরোধ করেন।”

এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কের পাশে একটি চায়ের দোকান এবং আখেরুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়।

আলতাব হোসেন বলেন, “আসামির সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের নৈশভোজ নৈতিকতা পরিপন্থি। আমাদের নেতাকর্মীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে লাঠিপেটা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তি চাই।”

প্রত্যাহার হওয়া লালমনিরহাট সদর থানার ওসি আব্দুল কাদের বলেন, “যারা আমাদের খাওয়া-দাওয়ার ছবি তুলছিলেন, তারা মাদককারবারি। তাদের আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরে সড়ক অবরোধকারীদের লাঠিপেটা করেছি যানচলাচলের স্বার্থে। 

“আমরা বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর ওপর লাঠিপেটা করিনি। আর আখেরুলকে আমরা চিনতাম না। সে যে হত্যা মামলার আসামি সেটাও জানা ছিল না।”

লালমনিরহাট ডিবির ওসি ফিরোজ হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ফোন ধরেননি।

পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, “অনুষ্ঠানে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আসার কারণে আমাকে যেতে হয়েছিল। আর অনুষ্ঠানে কেউ হত্যা মামলার আসামি ছিল, কি-না সেটি জানা ছিল না।

তিনি বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় সদর থানা ও ডিবির ওসিকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়েছে।

“এ ছাড়া ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”