Published : 23 Apr 2026, 10:30 PM
সাভারের রানা প্লাজার নিচে চাপা পড়ে বাম পা হারিয়েছেন তৈরি পোশাক শ্রমিক সুমি আক্তার। এখন আর কাজ করতে পারেন না।
১৩ বছর পরেও ঠিকমত ক্ষতিপূরণ পাননি বলে অভিযোগ করেন এই শ্রমিক। বলেন, “পা হারিয়েছি, কাজ করতে পারি না। এখন ঠিকমতো ক্ষতিপূরণ পাইনি। সন্তান নিয়ে কষ্টে আছি। আমরা চিকিৎসা, পুনর্বাসন আর দোষীদের বিচার চাই।”
আলোচিত রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর হতে যাচ্ছে শুক্রবার। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৭৫ জন শ্রমিক নিহত এবং আহত হন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক।
দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রানা প্লাজার সামনে নির্মিত শহীদ বেদীতে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়। সেখানে ক্র্যাচে ভর দিয়ে এসেছিলেন সুমি আক্তার। তখন তিনি সাংবাদিকদের তার দুঃসহ জীবনের কথা তুলে ধরেন।
প্রাণ হারানো শ্রমিকদের স্মরণে পোশাক শিল্পে শোক দিবস ঘোষণা, রানা প্লাজার সামনে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণসহ নানা দাবিতে কর্মসূচির আয়োজন করে হতাহত শ্রমিকদের স্বজন, আহত শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় তারা রানা প্লাজার জমি অধিগ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসেছিলেন দুই সন্তানকে হারানো রুবি বেগম। তিনি অপলক রানা প্লাজার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সেখানেই তার দুই সন্তান মাটির সঙ্গে মিশে রয়েছে।
রুবি বেগম বলছিলেন, “অনেকের হাড়গোড় উদ্ধার হলেও আমার দুই সন্তানের একজনের লাশও পাইনি। মাঝেমধ্যেই এখানে এসে বসে থাকি। স্বামীও মারা গেছে অনেক আগে। আয় করার কেউ নেই, ভিক্ষা করে চলি।”
ভবনের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত পারুল আক্তার বলেন, “শরীর আর আগের মত নেই। কাজ করতে পারি না। বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় আছি। সরকার থেকে সহায়তা করলে খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকতে পারতাম।”
ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার বলেন, “দুর্ঘটনার পর ফুসফুস নষ্ট, মেরুদণ্ডে ব্যথা। কোনো কাজ করতে পারি না। অনেক সময় মানুষের কাছে হাত পাততে হচ্ছে।”
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল আলম মিন্টু বলেন, “ক্ষতিপূরণ বলতে যা বোঝায় তা শ্রমিকরা এখনো পায়নি, দীর্ঘ ১৩ বছর পার হলেও পায়নি ন্যায্য বিচার। সব সরকারই শুধু আশ্বাস দেয়। কেউ আর বিচার নিশ্চিত করে না।”
তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার কিংবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেউ গার্মেন্ট মালিক কিংবা ভবন মালিক সোহেল রানার বিচার করেনি। এখন আমরা সবাই আপনার (বর্তমান সরকার) দিকে চেয়ে আছি। অপেক্ষার প্রহর গুনছি, ন্যায়বিচার আর শ্রমিকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণের জন্য।”
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, “প্রতিবছর এই দিনে আমরা নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করি। প্রতিবছরই আমরা একই দাবি তুলে ধরি। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির কোনোটাই বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার আমাদের দাবিগুলো পূরণ করবে। ভবন মালিক সোহেল রানাসহ দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে।”
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া ইসলাম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সাভার উপজেলা কমিটির সভাপতি এমদাদুল ইসলাম এমদাদ, সাভার থানা কমিটির সভাপতি কবির খান মনির, সাভার থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন হোসেন মোতালেব, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের শ্রমিক কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. রাসেল প্রামাণিক, শ্রমিক নেতা আবু কালাম, আলী আকবর।