Published : 03 Sep 2026, 01:02 PM
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কেওতা ঘিগড়া ফাজিল মাদ্রাসার ভবনটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
প্রায় ৭৯ বছর ধরে শিক্ষা আলো ছড়িয়ে আসা এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৩১ জন শিক্ষকের অধীনে শিক্ষা গ্রহণ করছে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। তবে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে তাদের।
শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের দাবি, কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেওতা ঘিগড়া ফাজিল মাদ্রাসার ভবনের দেয়াল ও ছাদে দেখা দিয়েছে ফাটল। কোথাও কোথাও পলেস্তারা ক্ষয়ে গেছে। এই ভবনেই প্রতিদিন ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। ভবনের এমন অবস্থায় আতঙ্কে রয়েছে তারা।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ বলেন, “শ্রেণিকক্ষে বসে থাকার সময় ছাদ ও দেয়ালের দিকে তাকালে ভবনের ফাটলগুলো চোখে পড়ে। তখন ভয় লাগে।
“বৃষ্টি হলে আতঙ্ক বাড়ে। কখন ভবনের কোন অংশ খসে পড়ে, সেই শঙ্কা হয়। আমরা দ্রুত ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ চাই।”
শিক্ষার্থী শাওন আলিফ বলছিলেন, “বৃষ্টি হলে ভয় তো বাড়েই, পাশাপাশি বৃষ্টির পানিতে আমাদের বই খাতা ভিজে যায়। আমরা নিরাপদ পরিবেশে ক্লাস করতে চাই। ভবনটি দ্রুত ঠিক করা দরকার।”
আরেক শিক্ষার্থী নূর নাহার বলেন, “অনেক দিনের পুরোনো ভবন। বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতি হয়েছে। প্রতিদিন এই ভবনে ক্লাস করতে আমাদের ভয় হয়।”
মাদ্রাসার ভবনটির দুরবস্থা নিয়ে শিক্ষক খলিলুর রহমানও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কেওতা ঘিগড়া ফাজিল মাদ্রাসার ভবনটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
“শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিদিনই আমাদের চিন্তা হয়। ভবনটি দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
তিনি জানান, প্রায় ৭৮ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৩১ জন শিক্ষক কর্মরত। তাঁদের অধীনে পড়াশোনা করছে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোবাশ্বের হোসাইন বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ক্ষয় দেখা দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে তারাও উদ্বিগ্ন।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হুদা চমন বলেন, “এই মাদ্রাসা থেকে এলাকার বহু মানুষ পড়াশোনা করেছেন। এত পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠানের ভবন জরাজীর্ণ হয়ে রয়েছে; বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে বিবেচনা করা উচিত।”
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঝালকাঠি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, “ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে আবেদন করা হলে বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।”