১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিক্ষোভের পর শাহপরাণের মাজারে গান-বাজনা নিষিদ্ধের ঘোষণা

খাদেম বলেন, “এমনকি প্রতি বৃহস্পতিবার যে গান-বাজনার আয়োজন করা হয় তাও এখন থেকে বন্ধ থাকবে।”

বিক্ষোভের পর শাহপরাণের মাজারে গান-বাজনা নিষিদ্ধের ঘোষণা
সিলেটের হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজারের গেইটে শুক্রবার বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন।

সিলেট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Sep 2024, 09:18 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:25 AM

একদল মানুষের বিক্ষোভ ও দাবির মুখে সিলেটের হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজারে গান-বাজনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর আশপাশের লোকজন এসে মাজারের সামনে ‘ওরসের নামে নাচ-গান, মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ’ নিষিদ্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেন। 

পরে বিকালে শাহপরাণ (রহ.) এর মাজারের খাদিম সৈয়দ কাবুল আহমদ এক ভিডিও বার্তায় গান-বাজনা নিষিদ্ধের ঘোষণা দেন। 

এতে তিনি বলেন, “খাদিম পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে বলছি, মাজারে ওরস উপলক্ষে গান-বাজনা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হল। কেউ ঢোল-তবলা নিয়ে আসবেন না। এমনকি প্রতি বৃহস্পতিবার যে গান-বাজনার আয়োজন করা হয় তাও এখন থেকে বন্ধ থাকবে। কেউ যদি করার চেষ্টা করেন তাহলে আমরা তা প্রতিহত করব।”

পরে সন্ধ্যায় খাদেম সৈয়দ কাবুল আহমদ বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতে এলাকাবাসী, ছাত্র-জনতা ও মাজার কর্তৃপক্ষ বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাজারে ওরস চলাকালে কোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ হবে না। আজকের (শুক্রবার দুপুরের) মানববন্ধনে আমরাও উপস্থিত ছিলাম।”

সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরর দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “শুক্রবার জুমার নামাজের পর আশপাশের এলাকার মুসল্লি, ছাত্র-জনতাসহ সবাই সিলেট-তামাবিল সড়কে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে তারা মাজারে ওরস চলাকালে সব ধরনের নাচ-গান, মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করেছেন।”

এ মাজারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ৮, ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর (৪, ৫ ও ৬ রবিউল আউয়াল) তিন দিনব্যাপী ওরসের আয়োজন করে থাকে মাজার কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানের প্রথম দিন খতমে কোরআন, দোয়া, জিকির আজকার এবং মিলাদ মাহফিল; দ্বিতীয় দিন গিলাফ চড়ানো, গরু কোরবানি, সারারাত জিকির আজকার, মিলাদ মাহফিল এবং ভোর ৪টায় ফাতেহা পাঠ করা হয়। শেষ দিন বাদ ফজর আখেরি মোনাজাতের পর তবারক ৎ বিতরণ করা হয়। 

তবে এলাকার কিছু বাসিন্দার অভিযোগ, ওরস চলাকালে ভক্তদের কেউ কেউ নাচ-গান ও মাদক সেবন করে থাকেন। জুয়ার আসরও বসানো হয়।  

শাহপরাণ (রহ.) থানার ওসি মো. হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, “স্থানীয় জনতা মাজারের ওরসকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অস্থিরতা বা অসামাজিক কার্যক্রলাপ না হয় সেজন্য মানববন্ধন করেছেন।”