রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লার আরেকটি চালান মোংলায়

এর আগে ৪ অগাস্ট মোংলা সমুদ্রবন্দর দিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য প্রথম পরীক্ষামূলক চালানের কয়লা আসে।

বাগেরহাট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Sept 2022, 07:14 PM
Updated : 20 Sept 2022, 07:14 PM

বাগেরহাটের রামপালের কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লার আরেকটি চালান মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে। 

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় কয়লা নিয়ে আসা এমভি মাগদা-পি নামের জাহাজটি মোংলা বন্দরের হাড়বাড়িয়ার ১২ নম্বর অ্যাংকোরেজে নোঙর করে। 

গ্রিক পতাকাবাহী এমভি মাগদা-পি জাহাজটিতে রামপালের মৈত্রী পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা ৩০ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন কয়লা রয়েছে বলে জানায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

এর আগে গত ৪ অগাস্ট মোংলা সমুদ্রবন্দর দিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে এমভি আকিজ হেরিটেজ জাহাজে করে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য প্রথম পরীক্ষামূলক চালানের কয়লা আমদানি করা হয়। 

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-সচিব (বোর্ড ও জনসংযোগ) মো. মাকরুজ্জামান রাতে বলেন, টগি শিপিং এজেন্টের অধীনে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লার দ্বিতীয় চালান নিয়ে গ্রিক পতাকাবাহী এমভি মাগদা-পি জাহাজটি রাত সাড়ে ৮টার দিকে বন্দরের পশুর চ্যানেলের হারবাড়িয়ার ১২ নম্বর অ্যাংকোরেজে নোঙর করেছে। 

তিনি জানান, ৩০ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে এসেছে ৮ দশমিক ৭ মিটার গভীর ও ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজটি। এখান থেকে লাইটার কার্গোতে করে কয়লা খালাস করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হবে। 

গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাচালিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র মৈত্রী পাওয়ার প্ল্যান্টের ইউনিট-১ যৌথভাবে উদ্বোধন করা হয়। 

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫৫ হাজার মেট্টিক টন কয়লা নিয়ে এই জাহাজ ছেড়ে আসে। 

শিপিং এজেন্ট টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিক লিমিটেডের ম্যানেজার খন্দকার রিয়াজুল হক জানান, ইন্দোনেশিয়া থেকে ছেড়ে আসা জাহাজটি গত ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ে। সেখানে ২৪ হাজার ৬০০ মেট্টিক টন কয়লা খালাস শেষে ১৯ সেপ্টেম্বর মোংলা বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে এসেছে। এখানে ৩০ হাজার ৪০০ মেট্টিক টন কয়লা খালাস হবে।  

বন্দর ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের মার্চে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিএফপিসিআইএল) জন্য বসুন্ধরা মাল্টি ট্রেডিং লিমিটেডের সঙ্গে তিন লাখ টন কয়লা কেনার চুক্তি হয়। 

১৩২০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাপমারি এলাকায় অবস্থিত। ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। ২০১০ সালে ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ২০১২ সালে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ। এখান থেকে দুই ইউনিটে ৬৬০ মেগাওয়াট করে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা রয়েছে; যার প্রথম ইউনিট এরই মধ্যে উৎপাদনে গেছে। 

খন্দকার রিয়াজুল হক বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় চালানের ৫৪ হাজার ৬৮৪ টন কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩১ অগাস্ট ছেড়ে আসা হংকং পতাকাবাহী জাহাজ এমভি সানিয়া নামে আরও একটি জাহাজ আগামী বুধবার মোংলা বন্দরের হাড়বাড়িয়ায় ভেড়ার কথা রয়েছে। ওই জাহাজটিও প্রথমে চট্টগ্রামে ২২ হাজার ৬৮৪ ও পরে মোংলা বন্দরে ৩২ হাজার টন কয়লা খালাস করবে। 

এর আগে ৫ অগাস্ট রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি কয়লার প্রথম চালান নিয়ে মোংলা বন্দরে এসেছিল এমভি আকিজ হেরিটেজ। সেটিতে মোট কয়লা আনা হয়েছিল মোট ৫৪ হাজার ৬৫০ টন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক