১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবিতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে চালু হচ্ছে ‘কোডিং পদ্ধতি’

নাম-রোলবিহীন এ পদ্ধতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টার থেকে চালু হবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Sep 2026, 01:53 PM

Updated : 17 Sep 2026, 03:00 AM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নাম-রোলবিহীন ‘কোডিং পদ্ধতি’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টার থেকেই এ পদ্ধতি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ।

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা, ফলাফলে পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা এবং যেকোনো ধরনের পক্ষপাত দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টার থেকে কোডিং পদ্ধতি চালু করা হবে।”

পরীক্ষায় কীভাবে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়ে মঙ্গলবার সকালে এক সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সভায় জানানো হয়, নতুন এ পদ্ধতিতে উত্তরপত্রের মলাটে পারফোরেশন করে দুটি অংশ থাকবে। শিক্ষার্থীর তথ্য সংবলিত উত্তরপত্রের ডান পাশের অংশটি পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে হবে।

শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর অনুযায়ী উত্তরপত্র সাজানোর আগে পরীক্ষার হলেই কোডিং করতে হবে। এ সময় সংশ্লিষ্ট কোর্স শিক্ষক বা পরিদর্শক উপস্থিত থাকবেন না।

পরীক্ষার হলের প্রধান পরিদর্শক অন্য একজন পরিদর্শককে সঙ্গে নিয়ে অথবা তার নির্ধারিত দুইজন পরিদর্শক উত্তরপত্রের কোডিং করবেন। তাদের একজন কোডিং করবেন এবং অপরজন কোড করা উত্তরপত্র পরীক্ষা করে ডান পাশের অংশটি ছিঁড়ে নেবেন।

ছেঁড়া অংশগুলো একটি খামে ভরে সিলগালা করে পরীক্ষা কমিটির সভাপতির কাছে হস্তান্তর করতে হবে। খামের ওপর কোডিং করা দুই পরিদর্শকই স্বাক্ষর করবেন।

বিভাগে শিক্ষক বা পরিদর্শক অপ্রতুল হলে পরীক্ষা কমিটি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কোর্স শিক্ষক ছাড়া অন্য শিক্ষক দিয়ে কোডিং করাতে পারবে।

কম্পিউটারাইজড ফলাফলের (ই-এক্সাম রেজাল্ট) ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোর্সের পরীক্ষক নন, এমন টেবুলেটররা কম্পিউটার সিস্টেমে রোল নম্বরের বিপরীতে কোড নম্বর এন্ট্রি করবেন।

টেবুলেশন শেষে ডিকোডিংয়ের একটি বিবরণী পরীক্ষা কমিটি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে সংরক্ষণের জন্য পাঠাবে।

এ ছাড়া মূল বা অতিরিক্ত উত্তরপত্রের প্রচ্ছদ কিংবা ভেতরের কোনো পৃষ্ঠায় পরীক্ষার্থীর নাম, রোল নম্বর, হলের নাম বা অন্য কোনো চিহ্ন দেওয়া যাবে না। এমনটি করা হলে ওই শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে না।