Published : 14 Aug 2024, 01:54 PM
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ফেনীতে দুজনের নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। এতে সাবেক সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ নেতাসহ সাড়ে ৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৪ অগাস্ট সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে অসহযোগ আন্দোলন চলার সময় ফেনী শহরের মহিপালে শিক্ষার্থী জাকির হোসেন শাকিল ও অটোরিকশার চালক মো. সবুজ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
মঙ্গলবার নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি মামলা করা হয়েছে বলে ফেনী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, শিক্ষার্থী জাকির হোসেন শাকিলের মা কোহিনুর আক্তার বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে করা হত্যা মামলায় ৭১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
একই দিন বিকালে হত্যা মামলা করেন অটোরিকশার চালক সবুজের ভাই মো. ইউসুফ। তিনি ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করেন।
নিহত সবুজের মামলার বাদী ইউসুফ উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সবুজ অংশ নেন। ওইদিন দুপুর ২টার দিকে ট্রাংক রোড থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা গুলিবর্ষণ শুরু করলে সবুজ সার্কিট হাউজ রোডের দিকে চলে যান। সেখানে স্বপন মিয়াজী, জানে আলম, মাহবুবুল হক লিটন ও অর্নবের গুলিতে সবুজ লুটিয়ে পড়লে অপর আসামিরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেন। পরে সবুজের মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে পুনরায় হামলার আশঙ্কায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ গ্রামের বাড়ি নিয়ে দাফন করা হয়।
পুলিশ জানায়, সবুজ হত্যা মামলায় সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, তিন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ৩০ জনপ্রতিনিধির নাম রয়েছে। যাদের মধ্যে পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য রয়েছেন।
সবুজের হত্যা মামলার আসামিরা হলেন ফেনী-২ (সদর আসনের) সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগ সভাপতি দিদারুল কবির রতন, ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হারুন মজুমদার।
ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান করিম উল্যাহ, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল।
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ মিলন, শর্শদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানে আলম ভূঞা, ফাজিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুল হক রিপন, পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক লিটন, ধলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার আহমেদ মুন্সী, লেমুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান মোশারফ উদ্দিন নাসিম, ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সাকা, কাজিরবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী বুলবুল আহমেদ সোহাগ।
কালিদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ডালিম, মোটবী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ, মাতুভূঞা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন, সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বাদল।
ফেনী পৌরসভার কাউন্সিলর জয়নাল আবদীন লিটন হাজারী, আশরাফুল আলম গিটার, লুৎফুর রহমান খোকন হাজারী, আমির হোসেন বাহার, কোহিনুর আলম রানা, গোলাম মেহেদী আলম চৌধুরী রুবেল, হারুন উর রশিদ মজুমদার, বাহার উদ্দিন বাহার, আবুল কালাম, সাহাব উদ্দিন, সাবেক কাউন্সিলর মজিবুর রহমান ভূঞা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য আবদুল জলিল আদর।
জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি জিয়াউল আলম মিষ্টার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শরীফ উল্যাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল বাহার ফয়সাল, সহসম্পাদক হুমায়ুন কবীর, সদর উপজেলা সভাপতি নুরুল আবছার আপন, পৌর যুগ্ম-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পিটু, রেজাউল করিম নাদিম, সহসম্পাদক আবুল কালাম সোহেল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম মোহন।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি জিয়াউদ্দিন বাবলু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ তপু, সাধারণ সম্পাদক নুর করিম জাবেদ, যুগ্ম-সম্পাদক রাকিব অর্ণব, পৌরসভার সাবেক সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত রাজু, সদর উপজেলার সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুস শুক্কুর মানিক, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক আবদুল্লাহ আল ফিরোজ।
জেলা তাঁতী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক ওমর এলাহী সুমন, ধলিয়া ইউনিয়ণ যুবলীগের সহসভাপতি নুরুল আলম বাদশা, পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ডালিম, স্থানীয় যুবলীগ নেতা সরোয়ার হোসেন রতন, হায়দার হোসেন পিংকু, শর্শদী ইউনিয়নের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সম্রাট, মহিপালের ছাত্রলীগ নেতা নাহিয়ান চৌধুরীর নাম রয়েছে।
অপরদিকে শাকিল হত্যা মামলায়ও অর্ধেকের বেশি আসামি জনপ্রতিনিধি।
ফেনী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, সবুজ হত্যা মামলায় এরই মধ্যে নিজাম উদ্দিন হাজারির পিএস মানিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।