১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

শেখ হাসিনার সরাসরি দেশে ফেরার সুযোগ নেই: শাহে আলম

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

সিলেট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Aug 2026, 07:55 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। 

তিনি বলেন, “তার সরাসরি ফেরার কোনো সুযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে রায় ঘোষিত হয়েছে। দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হবে।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়ায় সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তর রয়েছে এবং এই অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই সব স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

“অগাস্টের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ, অর্থ বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন যৌথ আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের ধাপ ও সময়সূচি নির্ধারণ করবে।”

সিলেট সিটি করপোরেশনের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের প্রশংসা করে শাহে আলম বলেন, অন্যান্য সিটি করপোরেশনের তুলনায় সিলেট অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সিসিক উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।

এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিমন্ত্রী সিসিকের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) ঘুরে দেখেন এবং দেশের প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীন সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম, এসটিএস এবং বায়োড্রায়িং প্ল্যান্টের বিভিন্ন দিক প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি। অন্যান্য সিটি করপোরেশনের তুলনায় সিলেট অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সিসিক যেভাবে কাজ করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, খাল পুনরুদ্ধারসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সিসিক অন্য অনেক সিটি করপোরেশনের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলে আমি আশা করি।”

দেশের প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট

সিলেট সিটি করপোরেশনের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিলেটে দেশের প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর এ প্ল্যান্ট চালু হলে নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। 

বর্জ্য থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি (Circular Economy) গড়ে তুলতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বায়োড্রায়িং প্রযুক্তিতে অণুজীবের প্রাকৃতিক বিপাকীয় তাপ এবং নিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে গৃহস্থালি বর্জ্য, স্যুয়ারেজ স্লাজ ও কৃষিজ বর্জ্যের অতিরিক্ত আর্দ্রতা দ্রুত অপসারণ করা হয়। এতে বর্জ্য উচ্চ তাপমাত্রাসম্পন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের উপযোগী হয়, যা বাংলাদেশের মতো উচ্চ আর্দ্রতাসমৃদ্ধ বর্জ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকর প্রযুক্তি।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরামর্শক মো. শাহীন আহমেদ খান, সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ উল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাসসহ সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক মন্ত্রী এম এ খানের নামে হবে বিজ্ঞান জাদুঘর

সাবেক মন্ত্রী ও নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী (এম এ) খানের নামে সিলেট নগরীতে গড়ে তোলা হবে একটি বিজ্ঞান জাদুঘর। এ ছাড়া নতুন করে নামকরণ হবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চণ্ডীপুল চত্বরেরও। স্মৃতি ধরে রাখতে সিলেটে আরও কয়েকটি স্থাপনা ও সড়কের নামকরণেরও পরিকল্পনা করছে সরকার।

এদিন বিকালে দক্ষিণ সুরমায় এম এ খানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

দোয়া মাহফিলে বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিবেচনায় এতদিন ধরে অবহেলিত ছিলেন মাহবুব আলী খান। সিলেটে পূর্বে গুণী এই মানুষটির স্মৃতি সংরক্ষণে তেমন কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। এ ঘাটতি পূরণেই এবার নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।”

শুধু বিজ্ঞান জাদুঘর বা চণ্ডীপুল চত্বরের নামকরণই নয়; এম এ খানের নামে সিলেটে আরও কিছু স্থাপনা ও সড়ক নামকরণের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান শাহে আলম।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সিলেট বিভাগের অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এই অর্থ ছাড় হলে আগামী এক বছরের মধ্যেই সিলেটের সড়ক ও হাটবাজারগুলোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।”

জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মাহবুব আলী খানের বাড়ি দক্ষিণ সুরমায়। তার নামে সিলেটের লামাকাজি এলাকায় একটি সেতু রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেক এবং সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।