মাগুরায় ধর্ষণ-হত্যা: হিটু শেখের ফাঁসির রায় কার্যকর দেখতে চান শিশুটির মা
আট বছরের মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।
বছর খানেক আগে আলোচিত মাগুরায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।
আসামির আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ এ রায় দেয়।
আসামির ফাঁসির রায় বহাল রাখায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মেয়েটির মা। তিনিসহ পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।
মেয়েটির মা বলেন, “শুধু রায়ে আদেশ বোয়ালই নয়, দ্রুত রায় কার্যকর দেখতে চাই। এমনভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করতে হবে যাতে বাংলাদেশের আর কোনো নারী, শিশু যেন এরকম ধর্ষণ ও হত্যার শিকার না হয়।”
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, হত্যা মামলায় চারজন আসামির মধ্যে হিটু শেখের ছেলে সজীব, রাতুল ও স্ত্রীর জাহেদা বেগম বেকসুর খালাস পেয়েছেন। তারা বাড়িতে রয়েছেন।
“অনেক সময় সজীব ও রাতুল আমাদের এলাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দেন। আমি অনেকটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি”, বলেন মেয়েটির মা।
সরকারের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন “আমার তিন ছেলে মেয়ের মধ্যে এক মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। স্বামীটা মানসিক ভারসাম্যহীন। সংসারে কোনো কাজ করতে পারেন না। আমাকে সব দেখাশোনা করতে হয়। সরকার যেন আমার পরিবারের দিকে একটু খেয়েল করে।
“মেয়েটির মৃত্যুর পর সারাদেশের মানুষ যেমন আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল, তেমনিভাবে সব সময় সকলে আমার পরিবারের পাশে থাকে।”
এমন পৈশাচিক ঘটনা যেন আর দ্বিতীয়বার না ঘটে, এমন দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তারা বলেন, আদালত হিটু শেখের ফাঁসির রায় বহাল রেখেছে, এতে এলাকাবাসী আনন্দিত। এখন রায়টা যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। পাশাপাশি দ্বিতীয়বার যেন এমন লোমহর্ষক ধর্ষণের ঘটনায় কাউকে আর মৃত্যুবরণ করতে না হয়।
মাগুরা জেলা মহিলা পরিষদের সাবেক সভানেত্রী লিপিকা দত্ত এই রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
হাই কোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মাগুরা জেলা গণকমিটির সদস্যসচিব প্রকৌশলী সম্পা বসু বলেন, “ঘটনার পর হিটু শেখের ফাঁসির দাবিতে মাঠে আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলাম, তা আজ সফল হয়েছে। আমরা শুধু হিটু শেখ নয় সারাদেশে সকল নারী নির্যাতনের বিচার চাই।”
শ্রীপুর উপজেলায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ২০২৫ সালের ৬ মার্চ ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের ওই শিশু। ওইদিন তাকে মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ৮ মার্চ তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়।
৮ মার্চ শিশুটির মা হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। শিশুটির মৃত্যুর পর ওই মামলায় হত্যার অভিযোগও যুক্ত করা হয়। মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখ ১৫ মার্চ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পুলিশ তদন্ত শেষে ১৩ এপ্রিল অভিযোগপত্র দেয় এবং ২৩ এপ্রিল বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।
ঘটনার মাত্র দুই মাস ১১ দিনের মাথায় ১৭ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মামলার অপর তিন আসামি শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ ও তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়। রায়ের পর হিটু শেখ হাই কোর্টে আপিল করেন। গত জুনে পেপারবুক হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছানোর পর শুনানি শুরু হয়।
উচ্চ আদালত আলোচিত এই মামলার আসামি হিটু শেখের রায় বহাল রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মনিরুল ইসলাম মুকুল।
তবে হিটু শেখের ছেলে রাতুলের দাবি, তার বাবা ষড়যন্ত্রের শিকার। মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
