Published : 04 Feb 2026, 09:44 AM
ঢাকা জেলার সাভার ও আশুলিয়া নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৯ আসনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেকোনো দলের কাছে বিশেষভাবে প্রধান্য পায়। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় সারা দেশ থেকে আসা মানুষরাই এখানকার বাসিন্দা ও ভোটার।
দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলটি ‘বিএনপির ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত। এখান থেকেই দুইবার সংসদ সদস্য হয়েছেন ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, যিনি এবারও ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তার প্রার্থী প্রত্যাহার করে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির দিলশানা পারুলকে (শাপলা কলি) সমর্থন দিয়েছে।
কিন্তু এই জোটের আরেক শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (ছাতা) প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
ফলে জামায়াতের ভোট কোন বাক্সে গিয়ে পড়বে, এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগ বিহীন ভোটের মাঠে অনেকটাই নির্ভার বিএনপি।
এর প্রভাব পড়েছে নির্বাচনি আমেজেও। এক প্রকার নিরুত্তাপ প্রচারের মধ্যে আসনটিতে বিজয়ী হতে প্রার্থীরা ভোটারদেরকে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
এ ছাড়া এই আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আম প্রতীকে মো. ইসরাফিল হোসেন সাভারী, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) ট্রাক প্রতীকে শেখ শওকত হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে মোহাম্মদ ফারুক খান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ হারিকেন প্রতীকে মো. কামরুল। তাদের প্রচারও তেমন দেখা মিলেনি।

সরজমিনে ভোটের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মূলত বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু ও এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুলের প্রচার কিছুটা চোখে পড়ছে। তাতেও কয়েক ধাপ এগিয়ে রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী।
তবে এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে খুশি সাধারণ ভোটাররা।
তারা বলছেন, ভোটের আগের দিনগুলোতে যেরকম জাঁকজমকভাবে নির্বাচনি হাওয়া বয়ে যাওয়ার কথা ছিল এই আসনটিতে সেইরকম আমেজ নেই। সামনে নির্বাচন- এটা মনে হচ্ছে না। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর পরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারবেন বলেই তাদের মনের মধ্যে একপ্রকার আনন্দ অনুভব হচ্ছে।
তাই নিজেদের মত করেই সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অলিতে-গলিতে ভোটের নানা হিসাব কষছেন তারা। ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী না থাকায় যদিও এই আসনটিতে বিএনপির প্রার্থীর বিকল্প দেখছেন না ভোটাররা। তবু সঠিক নেতৃত্ব ও যোগ্য প্রার্থী এবং দেশ ও দশের উন্নয়ন করবেন এমন প্রার্থীকেই বেছে নিতে চান তারা।
১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল বলেন, “আমি একজন নারী প্রার্থী। আর এখানকার অধিকাংশ ভোটার পোশাক শ্রমিক, যাদের বড় একটা অংশ নারী ভোটার। এ ছাড়া প্রচুর তরুণ ও নতুন ভোটার রয়েছে এই আসনে, যারা পরিবর্তন চায়। মূলত এই ভোটাররাই আমার সম্বল।”

এলডিপি প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীও নিজেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দাবি করে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করে ভোটারদের নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আলোচিত রানা প্লাজা ধসের পর তার অবস্থান ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ছাতা প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন তিনি।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এই বিভক্তিতে ধানের শীষের প্রার্থীর জয়ের পথ আরও সুগম হয়েছে বলে দাবি করে বিএনপি নেতা-কর্মীরা বলছেন, জামায়াতের ভোট এনসিপি ও এলডিপির মধ্যে ভাগাভাগি হলে তাদের ভোট বাড়বে।
বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, “যে দলের প্রার্থীই হোক আর সেই দল যত ছোটই হোক না কেন নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি সবাইকে সমান গুরুত্ব দেই। আমার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি।
“তবে আমার অতীতের কর্মকাণ্ড, আমার এবং দলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা থেকে ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”
ঢাকা-১৯ আসনটি সাভার উপজেলার শিমুলিয়া, ধামসোনা, ইয়ারপুর, আশুলিয়া, বিরুলিয়া, পাথালিয়া, সাভার ইউনিয়ন, সাভার পৌরসভা ও সাভার সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯০৬ জন, নারী ৩ লাখ ৬৭ হাজার ১৫১ জন ও হিজড়া ভোটার ১৩ জন।