Published : 05 Jan 2026, 07:24 PM
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চাইলে বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তার শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শরীয়তপুর আদালত পুলিশের এসআই শাহাবুদ্দিন মুন্সী বলেন, “রোববার রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা স্বপন মল্লিক তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করেন। আজ শুনানি শেষে আসামিদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডামুড্যা থানায় নেওয়া হয়।”
ডামুড্যা থানার ওসি মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, “আসামিদের রিমান্ডে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আজ ও আগামীকাল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর তাদের আবার আদালতে নেওয়া হবে।”
এর আগে রোববার সকালে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গ্রেপ্তাররা হলেন- কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতের শিকার হন খোকন দাস। হামলাকারীদের চিনে ফেললে তার শরীর পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়। তার শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই খোকন দাসের বাবা বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এর মধ্যে শনিবার সকাল ৮টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খোকন।
নিহত খোকন দাস উপজেলার তিলই গ্রামের পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিলই বাজারে তিনি ওষুধ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করতেন।
খোকন দাসের বাড়িতে তারেক রহমানের এপিএস, পাশে থাকার আশ্বাস
খোকন দাসের আয়ে চলত পরিবার: 'আমরা তো পথে বসে গেলাম'
শরীয়তপুরে ছুরিকাঘাতের পর শরীরে আগুন, দগ্ধ খোকন দাসের মৃত্যু